‘ফাদাক’ হযরত মা ফাতিমার স্মৃতিবিজড়িত ইতিহাস

৳ 140.00

  • লেখক : শহীদ মুহাম্মাদ বাক্বের আস্-সদর
  • অনুবাদ : শিহাব শাহরিয়ার
  • সম্পাদনা : হুসাইন মুহাম্মাদ আলী আব্বাস
  • স্বত্ব : আলে রাসূল পাবলিকেশন্স কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
  • প্রকাশকাল : একুশে বইমেলা ২০২১
  • প্রকাশনায় : আলে রাসূল পাবলিকেশন্স
  • প্রচ্ছদ : মজিবুর রহমান ভূইয়া
  • বিনিময় মূল্য : ২৪০
  • ISBN: 978-984-94790-4-8

 উৎসর্গ

হযরত মা ফাতিমা (সা.আ.)-এর পক্ষে
‘ফাদাক’-এর অধিকার আদায়ের আন্দোলনে
সূচনা থেকে আজ পর্যন্ত
সকল শহীদদের প্রতি . . .

 

সূচী

সূচনা ০৮
লেখক ও গ্রন্থ পরিচিতি ০৯
গ্রন্থটির রচনাপ্রণালী ১০
গ্রন্থটির অধ্যায় ভিত্তিক সারাংশ ১১
‘ফাদাক’ নিয়ে কিছু কথা ১২
এই সংস্করণে আমার ভূমিকা ১৫
লেখকের বাণী ১৬

প্রথম অধ্যায়
বিদ্রোহের দৃশ্যপট ১৭
সূচনা ১৭
ঘটনার পারিপাশির্^কতা ২০
বিদ্রোহের হাতিয়ার ২১
সংগ্রামের গতিপথ ২৫
নারীকুল ২৬
এক আশ্চর্য ঘটনা ২৬

দ্বিতীয় অধ্যায়
ফাদাকের প্রকৃত ও প্রতীকী অর্থ ২৮
অবস্থান ২৮
প্রাথমিক পর্যায়ে ফাদাক ২৯
ইমাম আলী (কা.)-এর শাসনামলে ফাদাক ২৯
উমাইয়া শাসনামলে ফাদাক ৩০
আব্বাসীয় শাসনামলে ফাদাক ৩২
ফাদাকের প্রতীকী ও বিষয়ভিত্তিক মূল্যায়ন ৩৪
তৃতীয় অধ্যায়
সংগ্রামের ইতিহাস ৩৬
ইতিহাস গবেষণার পদ্ধতি ৩৭
ইসলামের প্রারম্ভিককালের ইতিহাসের মূল্যায়ন ৩৮
আল-আক্বাদ ও তার গবেষণা ৪৩
সংগ্রামের উদ্দীপক ৪৭
প্রথম খলিফার পরিস্থিতির উদ্দীপক ৪৯
ফাদাকের রাজনৈতিক মাপকাঠি ৫১
বিষয়ভিত্তিক পারিপার্শ্বিকতায় ফাদাক ৫৭
মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওফাত ৫৭
সাক্বীফা ও ইমাম আলী (কা.)-এর পরিস্থিতি ৫৯
সাক্বীফা পরিস্থিতির বিশ্লেষণ ৬৮
ইমাম আলী (কা.), তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ও
শাসনের প্রতি তাঁর অবস্থান ৭৯
রাসূল (সা.)-এর হাদিসগুলোকে পুঁজি করে
কেন ইমাম আলী (কা.) প্রতিবাদ করেননি? ৮৭
শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ৯২

চতুর্থ অধ্যায়
হযরত ফাতিমা (সা.আ.)-এর ঐতিহাসিক বক্তব্য ৯৯
রাসূল (সা.)-এর মহানুভবতা ৯৯
ইমাম আলী (কা.)-এর মহানুভবতা ১০০
ইমাম আলী (কা.) ও অন্যান্যদের পরিস্থিতির তুলনা ১০২
শাসক দল ১০৬
মহাবিদ্রোহ ১০৮

পঞ্চম অধ্যায়
গ্রন্থটির বিচারিক দৃষ্টিভঙ্গি ১২৪
রাসূল (সা.)-এর উত্তরাধিকারের ব্যাপারে
খলিফা আবু বকরের অবস্থান ১২৪
খলিফা আবু বকরের হাদিসের ভিন্নতা ১২৯

 

লেখক ও গ্রন্থ পরিচিতি

“ফাদাক – হযরত মা ফাতিমার স্মৃতিবিজড়িত ইতিহাস” গ্রন্থটি শহীদ মুহাম্মদ বাকির আস-সদরের প্রথম গবেষণাধর্মী কাজ। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে, গ্রন্থটি প্রকৃতপক্ষে একটি অনন্য গবেষণা, কারণ ‘ফাদাক’ বিষয়ক প্রতিটি তথ্য পর্যবেক্ষণের জন্য আধুনিক ও বিশেষ পদ্ধতির অবলম্বন করা হয়েছে। বইটি অধ্যায়নের পর পাঠকদের মাঝে বিতর্কের সৃষ্টি হতে পারে, তবে তা জটিল, যৌক্তিক ও সঠিক।
যদি আপনি পঞ্চাশ বছর পূর্বের কিংবা তার একটু পরের গবেষণার দিকে দৃষ্টিপাত করেন, আপনি এমন সংবেদনশীল ইস্যুগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করবেন এবং আপনি বুঝতে পারবেন যে শহীদ মুহাম্মদ বাকির আস-সদর ‘ফাদাক’ নিয়ে গবেষণার জন্য বিশেষ পূর্ববর্তী ঘটনা ও ঐতিহাসিক দিকগুলো তুলে ধরেছেন। আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই কারণ ছোটবেলা থেকেই শহীদ মুহাম্মদ বাকির আস-সদরের মেধার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। তার মেধার ফলে তিনি জ্ঞান ও শরীয়াহ্ গবেষনার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখেন। তিনি ফিক্বাহশাস্ত্র নিয়ে অনেক গবেষণা করেন, তিনি মুজতাহিদ ও অতুলনীয় মেধাবী ছিলেন। তিনি ইসলামিক চেতনাকে সমৃদ্ধ করেছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ মাস্য়া’লাহসমূহ জনমানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন।
সুতরাং বলাবাহুল্য যে, আস-সদর ছিলেন পুনর্জীবিত ইসলামের জীবন্ত গবেষণার পথিকৃৎ। তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক ও জিহাদের দায়িত্বগুলো এতটাই সুন্দরভাবে পালন করেছেন যে ইসলামি ইতিহাসে হাতেগোনা কিছু মনিষী তার মতো করতে পেরেছেন। যতক্ষণ না পর্যন্ত তার পবিত্র জীবন আল্লাহ ও ইসলামের জন্য শহীদ হয়, তিনি জিহাদ চালিয়ে যান এবং মনোযোগের সহিত নিরবিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেন যেন মুসলমানরা পশ্চিমাবিশ্বের কুফরি মতবাদ থেকে দূরে থাকে এবং আন্তর্জাতিক জালেম ও তাদের দালালদের হাত থেকে যেন মুসলিম উম্মাহর ভবিষ্যৎ রক্ষা করা যায়।

 

গ্রন্থটির রচনাপ্রণালী

শহীদ সাইয়্যেদ আস-সদর “ফাদাক Ñহযরত মা ফাতিমার স্মৃতিবিজড়িত ইতিহাস” গ্রন্থটিতে বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করেন। তিনি মনে করেন যে, রাজনৈতিক বিষয়াবলিরও গবেষণার অন্তর্ভূক্ত হওয়া উচিত। বাস্তবতার উপর এই পদ্ধতি নির্ভরশীল যা তিনি নিরপেক্ষ পরীক্ষা ও নিরীক্ষার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। তিনি ছিলেন মুক্তচিন্তার অধিকারী। আস-সদর এসকল বিষয়কে মৌলিক শর্ত হিসেবে বিবেচনা করেন যাতে তিনি নিবিড়, ঐতিহাসিক রচনাশৈলী নির্মাণ করতে পারেন, যেখানে তিনি পূর্বপুরুষদের প্রকৃত জীবন তুলে ধরেছেন যা তৎকালীন সময়ে সুপরিচিত ছিল। তিনি মনে করেন: “ঐতিহাসিকভাবে ও সামাজিকভাবে অতীত আমলের প্রতিটি বিষয় খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে হবে, বিশেষ করে ধর্মীয়, নৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনের গবেষণার ক্ষেত্রে।”
যদি এটাই এমন ঐতিহাসিক গবেষণার লক্ষ্যবস্তু হয়, তাহলে আস-সদর এই প্রয়োজনীয়তার দিকে দৃষ্টিপাত করেছেন যে, মানুষের বাস্তব জীবন থেকে নিরীক্ষা করতে হবে কিন্তু কোন অবাস্তব ও কল্পনা কিংবা অন্ধভক্তি ও অনুকরণ থেকে কিছু নেওয়া যাবে না। তারপর তিনি এমন নিরীক্ষার জন্য একটা শর্ত রাখেন যে, পথভ্রষ্ট কল্পনার উপর ভরসা করা যাবে না যা অযৌক্তিক বিষয় উত্থাপন ও অসংলগ্ন ফলাফল নিয়ে আসে। শহীদ সাইয়্যেদ আস-সদর বিশেষ গবেষণার প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করেন এবং আমাদের কাল্পনিক অনুভুতিকে দূরে সরিয়ে রাখেন। তিনি ঐতিহাসিক গবেষণার নেতিবাচক প্রভাবের দিকেও দৃষ্টিপাত করেন; কারণ হয়তো একজন ইতিহাসবেত্তা তার নিজস্ব চিন্তাভাবনার দ্বারা একজন ঔপন্যাসিকে পরিণত হতে পারেন, কারণ সেই ইতিহাসবেত্তা ঐতিহাসিক ঘটনা থেকে দূরে সরে যান।
এই গ্রন্থের রচনা পদ্ধতির মুখচ্ছবি সাইয়্যেদ আস-সদরের গভীর ইসলামি চেতনা ও বিশেষ গবেষণার মৌলিক শর্তগুলো তুলে ধরেছে। আমি বুঝতে পারলাম যে তিনি বেশ উদ্যমী, সত্যের একনিষ্ঠ দৃঢ় সমর্থক, যিনি প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরতে পারেন। তিনি ঐতিহাসিক প্রমাণের উপর নির্ভরশীল। তিনি সঠিক মূলনীতি ও বিষয় অনুযায়ী যেকোনো বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন।

 

গ্রন্থটির অধ্যায়ভিত্তিক সারাংশ

সাইয়্যেদ আস-সদর হযরত ফাতিমা (সা.আ.)-এর পরিবারের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী ফাদাকের বিষয়টি বর্ণনা করেছেন যা ইসলামি স্বর্ণযুগ ও পরবর্তী যুগের সাথে সম্পর্কিত। তাই আস-সদর ফাতিমা (সা.আ.)-কে দেওয়া মনোকষ্ট ও তাঁর পিতা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মহান স্মৃতিচারণের প্রেক্ষাপট থেকে ফাদাকের বিষয়টি আলোচনা করেছেন। মহানবী (সা.)-এর স্মৃতি ফাতিমা (সা.আ.)-এর মনে সবসময় সচল ছিল। হযরত ফাতিমা (সা.আ.) অসংখ্য অগ্নিপরীক্ষা ও অসন্তোষের সামনে অবতীর্ণ হন। সবকিছু তাকে আর্তনাদ ও মোকাবিলা করতে বাধ্য করেছিল। সাইয়্যেদ আস-সদর দ্বিতীয় অধ্যায়ে ফাদাক নামটি উল্লেখ করেন এবং পরম্পরাগত ঐতিহাসিক বিষয়গুলো বর্ণনা করেন যখন ফাদাকের জমি ফাতিমা (সা.আ.)-এর নিকট থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল এবং যতদিন না পর্যন্ত তা আব্বাসীয় খিলাফাতের শেষ সময় পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। তারপর আস-সদর তৃতীয় অধ্যায়ে বিদ্রোহের ব্যাপারে আলোচনা করেছেন এবং গবেষণার শর্ত ও ব্যক্তি বিশেষের জীবনী লেখার পদ্ধতি তুলে ধরেন। তিনি প্রথম ইসলামি স্বর্ণযুগ ও তার অর্জনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারপর তিনি মিশরীয় লেখক আল-আক্বাদের লিখা “ফাতিমা ও ফাতিমার পরিবার” গ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করেন। আস-সদর আল-আক্বাদের ‘ফাদাক’ নিয়ে ব্যর্থ প্রচেষ্টার যৌক্তিক সমালোচনা করেন কারণ আল-আক্বাদ হয়তো যথাযথ গবেষণা না করেই দূর্বল উৎসের উপর ভিত্তি করে গ্রন্থটি রচনা করেছিলেন।
ফাদাকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে সাইয়্যেদ আস-সদর বুঝানোর চেষ্টা করেন যে, এটা কোন ক্ষেত্রবিশেষ কিংবা অপহৃত সম্পত্তির বিবাদ নয়; বরং এটা তার চেয়েও বেশি কিছু। আস-সদর বলেন- “আমরা মনে করি যে, যদি আমরা ফাদাকের প্রকৃত ইতিহাস ও বিবাদগুলো নিয়ে গবেষণা করি, আমরা বিদ্রোহের দৃষ্টিপাত সম্পর্কে হয়তো অনুমান করতে পারব। আমরা দেখতে পাই যে প্রকৃত বিবাদ ও পদক্ষেপগুলো ছিল শাসক নীতির বিরুদ্ধে এক প্রকার বিদ্রোহ. . .।” তারপর তিনি একটা যৌক্তিক কথা বলেন- “যদি আপনি ফাদাকের ব্যাপারে জানার জন্য ঐতিহাসিক তথ্যপ্রমাণের দিকে তাকান, আপনি কি ফাদাকের সম্পত্তিকে ঘিরে কোন বিবাদ দেখতে পান না? নাকি আপনি এই বিবাদ খুঁজে পান যে, ফাদাকের জমিটি শুধু-ই ব্যক্তিগত সম্পদ কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্পদ? নিশ্চিতভাবে তা নয়! এটি ছিল শাসন ও হট্টগোলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ যা ফাতিমা (সা.আ.) সামনে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন, কারণ সাক্বীফা দিনের পর থেকেই ইতিহাস নির্মিত হয়েছিল. . .।”
এরপর আস-সদর বইটির শেষ অধ্যায়ে ফাদাকের বিস্তারিত ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন। তিনি আপাতবিরোধী মতবাদ সামনে তুলে ধরেছেন যার উপর ভিত্তি করে হযরত ফাতিমা (সা.আ.)-কে তার প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। আস-সদর সমস্ত ঘটনা বর্ণনার জন্য পবিত্র কুরআন মাজিদ ও সুন্নাহর উপর নির্ভরশীল ছিলেন যা সত্য ও সুস্পষ্ট।
এই হলো গ্রন্থটির অধ্যায়গুলোর সারাংশ যেখানে পাঠকগণ অধিকতর দক্ষ গবেষণা ও স্বচ্ছ পদ্ধতির সুস্পষ্ট যুক্তি খুঁজে পাবেন, যা পক্ষপাতহীন গবেষণার জন্য প্রয়োজন।

 

‘ফাদাক’ নিয়ে কিছু কথা

হযরত ফাতিমা (সা.আ.)-এর দৃষ্টিকোন থেকে ‘ফাদাক’ কেবলমাত্র উপহারের বস্তু নয়, যা কতগুলো রাষ্ট্রীয় অজুহাত দর্শনের মাধ্যমে তঁাঁর নিকট থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল; বরং রাসূল (সা.)-এর প্রচেষ্টা ও সংগ্রামী জীবনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত নব্য ইসলামকে বিশ^ব্যাপি ছড়িয়ে দেয়ার জন্য ফাদাকের সম্পত্তির সাথে এর নিবিড় সম্পর্ক ছিল ইসলামের ভবিষ্যত বিস্তৃতিতে।
কিন্তু রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যবহারের নামে ফাদাককে কুক্ষীগত করা হয়েছিল যা তৎকালীন প্রকৃত ইসলামের চর্চাকে ব্যাহত করেছিল। যদিও ‘ফাদাক’ রাষ্ট্রীয় শাসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।
ঘটনার গুরুত্ব বৃদ্ধি পায় যখন কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব দ্রুত রাজনৈতিক অবস্থান পাকাপোক্ত করার জন্য উদগ্রীব হয়ে যায়, যদিও তাদের সত্য সুন্নাহর পথ আকড়ে ধরার কথা ছিল। ফলশ্রুতিতে, সর্বপ্রথম সুযোগসন্ধানী লোকজনের ভাগ্যের দরজা খুলে যায় এবং মহানবী (সা.)-এর স্ত্রী হযরত আয়েশা (রা.) বলেনÑ “খিলাফতের দায়িত্ব সবাই পাবে, সে ধার্মিক কিংবা অধার্মিক যাই হোক না কেন।” এমতাবস্থায় হযরত ফাতিমা যাহ্রা (সা.আ.) এই বিষয়টির সামনে এসে দাঁড়ান, যেন কোন বিভীষিকাময় পরিস্থিতির উদ্্েরক না ঘটে।
সুতরাং আসন্ন ভয়ঙ্কর অবস্থা বুঝতে পেরে তিনি (ফাতিমা) মুসলিম উম্মাহ্, নেতৃবৃন্দ ও জনসন্মুখে ফাদাকের বিষয়টির মাধ্যমে পরিস্থিতির অবলোকন করেন।
হযরত ফাতিমা (সা.আ.) বলেনÑ “আল্লাহর কসম, এটি (শাসক ও জনগনের পরিস্থিতি) যেন একাকার হয়ে গেছে, সুতরাং অপেক্ষা করুন, যতক্ষণ না তারা জেঁকে বসে ও নিজেদেরকে প্রজ¦লিত (নিজেরাই নিজেদের ধ্বংস) করে। তারপর তারা মিথ্যাচারকে দমনের প্রতিশ্রুতি দিবে। কিন্তু পরবর্তীতে উত্তরাধিকারীরা জানতে পারবে কত মিথ্যা-ই না তারা প্রতিষ্ঠা করেছে! তাই শান্ত হোন এবং সেই বিদ্রোহের জন্য অপেক্ষা করুন। অন্যথায় আপনাদের অস্ত্রের ঝংকার, তোলপাড় ও স্বেচ্ছাচার সেই বিজয়কে তুচ্ছ করতে পারে এবং ঐক্যের জন্য অন্তরায় হতে পারে।”
এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা দেখতে পারি যে, সাইয়্যেদ আস-সদরের ভিতরে থাকা উদ্যম ও চরম অনুভূতি প্রকাশ পায় যখন তিনি ফাতিমা (সা.আ.)-এর পরিবারের দৃষ্টিকোণ অনুযায়ী ইসলামের প্রতি ভালোবাসা থেকে গবেষণা, আলোচনা ও বর্ণনা করেন।
পুরো গবেষণা জুড়ে প্রতীয়মান হয়েছে যে, শহীদ সাইয়্যেদ আস-সদর আল্লাহর নিকট সাহাবীদের জন্য কল্যান কামনা করেন এবং ইসলামের জন্য তাদের আত্মত্যাগের প্রশংসা করেন কিন্তু একই সময়ে তিনি সাহাবীদের ছোটখাটো ভুল-ত্রুটি গুলোও এড়িয়ে যান নি। কারণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বিবেচ্য বিষয়বস্তু হলো ইসলামের বিশুদ্ধতা, যথার্থতা ও নিরাপত্তা। যদি কেউ বিদ্রোহ করতে চায় এবং তার যদি এমনটা করার অধিকারও থাকে, সে আমাদেরকে আনুগত্য স্বীকার করাতে বাধ্য করাতে পারবে না। অন্যথায়, সে সত্যের বিরুদ্ধেও বিদ্রোহ করতে পারে। যেমন: মালিক বিন নুওয়ারাহকে ঘিরে খালিদ বিন ওয়ালিদের ব্যাপারে খলিফা উমর একটা মন্তব্য করেন। খলিফা উমর খলিফা আবু বকরকে বলেনÑ “খালিদ হযরত মালিক ইবনে নুওয়ারাকে খুন করে তাঁর স্ত্রীকে নিজের জন্য নিয়ে নেয়. . .।” খলিফা আবু বকর খালিদের অপরাধ ঢাকার জন্য অজুহাত প্রদর্শন করেন, কিন্তু খলিফা উমর খুশি হলেন না। খলিফা উমর খলিফা হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিজের মাঝে রাখেন এবং খলিফা হওয়ার পরপরই খালিদকে সেনাপতির পদ থেকে ক্ষমতাচ্যুত করেন।
তাই আমরা প্রতিটি ব্যাখ্যা মানতে বাধ্য নই। নিঃসন্দেহে, ত্রুটি নির্ণয়, ইতিহাস সংরক্ষণ ও সেগুলো নিয়ে গবেষণা করার ফলে আমরা বিভ্রান্তি থেকে দূরে থাকতে পারব। এটাই ইসলাম ও উম্মাহর জন্য মঙ্গলজনক হবে।
এটাই হলো শহীদ আস-সদরের লক্ষ্য যা আমাদেরকে বিশেষ অনুসন্ধানের দিকে ধাবিত করে। আমরা দেখতে পাই যে যেসকল ইঙ্গিত, হাদীস, বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত এই গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো ঐতিহাসিক ঘটনাবলী, নির্ভরযোগ্য উৎস ও সাহাবীদের হাদিস থেকে নেওয়া হয়েছে।
পাঠকদের নিকট পরিষ্কার হবে যে, বক্তব্যে কোন তাড়াহুড়ো করা উচিৎ নয়, চিন্তাভাবনায় কোন বৈষম্য থাকা উচিৎ নয় ও তথ্যপ্রমাণ ছাড়া কোন সিদ্ধান্তে আসা উচিৎ নয়।

 

লেখকের বাণী

প্রিয় পাঠক,
আমাদের প্রাণপ্রিয় নাজাফ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটির সময় আমি ইসলামি ইতিহাসের সমস্যা নিয়ে গবেষণা করতে যাই, আর তখন-ই আমি গ্রন্থটি লিখি।
গ্রন্থটি ফাদাকের ঐতিহাসিক বিবাদ নিয়ে রচিত যা হযরত ফাতিমা যাহ্রা (সা.আ.) ও প্রথম খলিফা আবু বকরের মাঝে সংঘটিত হয়েছিল।
অনেক সম্ভাবনাই আমার মাথার মধ্যে কাজ করেছিল। আমি বিভিন্ন কাগজপত্রে সেগুলো লিখে রেখেছিলাম। যখন আমি ‘ফাদাক’ বিষিয়ক হাদিস ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ নিয়ে পড়াশোনা শেষ করি, আমি বুঝতে পারলাম টুকরো টুকরো কাগজে আমি যেসকল বিষয়াবলি লিপিবদ্ধ করেছি তা ‘ফাদাক’ বিষয়ক গবেষণার জন্য যথেষ্ট।
আমি লেখাগুলোকে পুনঃসংশোধন করা শুরু করি এবং অধ্যায় আকারে সাজাই যা পরবর্তীতে একটা ছোট্ট বই আকারে ধারণ করে।
আমি বইটিকে চিরকুট হিসেবে রাখার সিদ্ধান্ত নেই। যতক্ষণ না পর্যন্ত শেখ সাদিক আল-কুতুবির ধর্মপ্রাণ মুমিন ছেলে শেখ মুহাম্মদ কাজিম আল-কুতুবির মুদ্রণের অনুমতি না পাওয়ার আগ পর্যন্ত আমি লিখা শুরু করি। আরবি ভাষার প্রতি তার দক্ষতা ও ইসলামি গ্রন্থাগারের প্রতি তার ভালোবাসার কদর করতে আমি বাধ্য।
-আজ এই পর্যন্তই।
মুহাম্মাদ বাক্বের আস্-সদর
-লেখক

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “‘ফাদাক’ হযরত মা ফাতিমার স্মৃতিবিজড়িত ইতিহাস”

Your email address will not be published.

Quality
Price
Service