জীবন জিজ্ঞাসা

৳ 250.00

  • জীবন জিজ্ঞাসা
  • গ্রন্থকার :  নূর হোসেন মজিদী
  • প্রকাশনায় : মুহাঃ রুস্তম আলী
  • মুদ্রণে : উচ্চাশা প্রিন্টিং প্রেস
    গাউসূল আজম মার্কেট, নীলক্ষেত, ঢাকা-১২০৫।
  • প্রকাশকাল : ১৮ই যিল্হাজ্জ ১৪৪০ হিজরী,
    ২০শে আগস্ট ২০১৯ খৃস্টাব্দ, ৫ই ভাদ্র ১৪২৬ বাংলা
  • প্রচ্ছদ : নূরে আলম মাসউদ
  • পৃষ্ঠা সংখ্যা : ২৯২
  • ISBN: 978-984-91642-5-8

সূচীপত্র

বিষয় পৃষ্ঠা
ভূমিকা ৯
বিচারবুদ্ধি ও ইসলাম ১৫
জীবনজিজ্ঞাসার জবাব সন্ধানে জ্ঞানতত্ত্বেও পথনির্দেশ ৩১
জীবনজিজ্ঞাসা ঃ বিচারবুদ্ধির জবাব ৩৯
বস্তুবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে অবস্তুগত অস্তিত্ব ৫৩
বিশ্বজগতে স্রষ্টার অস্তিত্বের নিদর্শন ৬৩
সৃষ্টি মানেই তার স্রষ্টা আছে ৬৬
সৃষ্টিজগতের আয়তন ও বস্তুর গঠনকাঠামো ৬৭
কোন্ সে কুশলী শিল্পী? ৭০
সৃষ্টিজগতের মহাবিস্ময় ক্ষুদ্রতম পিপিলিকা ৭১
মানুষ মহাবিস্ময়ের আধার ৭৬
বিচারবুদ্ধির দৃষ্টিতে অপরিহার্য সত্তার গুণাবলী ৮৩
এক ঃ তিনি অনাদি-অনন্ত ও কালোর্ধ সত্তা ৮৫
দুই ঃ তিনি অসীম বা স্থানোর্ধ সত্তা ৮৬
তিন ঃ তিনি নিরাকার ৮৯
চার ঃ তিনি অবিভাজ্য ও অযৌগিক সত্তা ৯০
পাঁচ ঃ তিনি অস্তিত্বদান-ক্ষমতার অধিকারী ৯২
ছয় ঃ তিনি চিরজীবী ৯৫
সাত ঃ তিনি চিরজ্ঞানময় ৯৬
আট ঃ তিনি সর্বশক্তিমান ৯৭
নয় ঃ তিনি ইচ্ছাশক্তির অধিকারী ৯৭
সৃষ্টির সাথে সম্পর্ক নির্দেশক গুণাবলী ৯৮
এক ঃ তিনি সৃষ্টিকর্তা ৯৮
দুই ঃ তিনি ব্যবস্থাপক ও পরিচালক ৯৯
তিন ঃ তিনি সর্বজ্ঞ ১০০
চার ঃ তিনি পথপ্রদর্শক ১০০
পাঁচ ঃ তিনি সত্যবাদী ১০১
ছয় ঃ তিনি দেখেন ও শোনেন ১০১
সাত ঃ তিনি দয়ালু ও কঠোর ১০২
অপরিহার্য সত্তার উলুহিয়্যাত্ বা উপাস্যতা ১০৩
বিচারবুদ্ধির দৃষ্টিতে অপরিহার্য সত্তার একত্ব ১০৫
আদি ঈশ্বর সৃষ্ট দেব-দেবীর ধারণা ১০৫
একাধিক অনাদি অপরিহার্য সত্তার ধারণা ১০৬
একাধিক পূর্ণাঙ্গ ঐশ্বরিক সত্তার ধারণা ১০৭
অবতারবাদের ধারণা ১০৮
ঈশ্বরের গুণাবলীর স্বতন্ত্র ঐশ্বরিক সত্তার ধারণা ১১১
ঈশ্বরের গুণাবলীর দেবমূর্তি নির্মাণ ১১২
দ্বি-ঈশ্বরবাদী ধারণা ১১৩
ত্রিত্ববাদী ধারণা ১১৪
দেবদেবীদের ঈশ্বরের কর্মগত অংশীদার হওয়ার ধারণা ১১৮
বিচারবুদ্ধির দৃষ্টিতে সৃষ্টি ও ব্যবস্থাপনার প্রক্রিয়া ১২১
সৃষ্টিকর্ম স্রষ্টাগুণের স্বতঃস্ফূর্ত বহিঃপ্রকাশ ১২১
স্বতঃস্ফূর্ততা মানে স্বয়ংক্রিয়তা নয় ১২১
তিনি প্রাকৃতিক বিধানের স্রষ্টা ১২২
তিনি স্বাধীন সৃষ্টির কাজে হস্তক্ষেপ করেন ১২২
অনবরত নব নব সৃষ্টি ১২৩
সৃষ্টির কাজে স্রষ্টার হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা ১২৪
সৃষ্টিকর্তার জ্ঞান ও স্বাধীন সৃষ্টির ভবিষ্যত ১২৫
স্রষ্টার কর্মের সাথে কালের সম্পর্ক ১২৭
অপরিহার্য সত্তা কর্তৃক সৃষ্টিকরণের তাৎপর্য ১২৯
সৃষ্টিলোকে ‘অবাঞ্ছিত’ উপাদানসমূহের অস্তিত্বের তাৎপর্য ১৩১
সৃষ্টিকর্তা খামখেয়ালিপনা ও উদাসীনতা থেকে প্রমুক্ত ১৩২
সকল সৃষ্টি অভিন্ন সৃষ্টিসত্তার অংশ ১৩২
সমগ্র সৃষ্টিজগত অভিন্ন লক্ষ্যাভিসারী ১৩২
প্রাণীদের স্বার্থসংঘাত স্বাধীনতার অনিবার্য দাবী ১৩৪
‘অবাঞ্ছিত’ প্রতিক্রিয়া মানুষের উন্নতির কারণ ১৩৪
ক্ষতিকারকতা আপেক্ষিক ১৩৫
ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যের নেতিবাচক ব্যবহার ১৩৫
পিতামাতার কারণে সন্তানের দুর্ভাগ্য কেন? ১৩৭
‘আমি কেন তুমি হলাম না?!’ ১৪১
বিচারবুদ্ধির দৃষ্টিতে স্রষ্টা ও সৃষ্টির সম্পর্ক ১৪৫
সৃষ্টি স্রষ্টার অংশ নয় ১৪৫
স্রষ্টার বাইরে সৃষ্টির অস্তিত্ব নেই ১৪৭
পরম স্রষ্টার সৃষ্টিবৈচিত্র্য ১৪৮
বন্দিত্ব নাকি স্বাধীনতা? ১৪৯
মানুষের জন্য সৃষ্টিকর্তার পথনির্দেশ ১৫৬
বিচারবুদ্ধির দৃষ্টিতে মৃত্যুপারের জীবন ১৫৯
পরকালীন জীবন সম্ভব কি? ১৬৭
দু’টি সংশয়ের নিরসন ১৬৯
শাস্তি ও পুরস্কার ঃ শারীরিক, না মানসিক? ১৭২
পরকালীন হিসাব-নিকাশ ১৭৩
মানুষ বিশেষ পথনির্দেশের মুখাপেক্ষী ১৭৭
আইনপ্রণেতার প্রয়োজনীয়তা ১৮১
স্রষ্টামনোনীত পথনির্দেশক ১৮৩
বিচারবুদ্ধির দৃষ্টিতে নবী চেনার উপায় ১৮৫
মু‘জিযাহ্ কী? ১৮৮
নবীর পাপমুক্ততা ১৯২
মহাসত্যের প্রশ্নে নবীর আপোসহীনতা ১৯৯
কেবল প্রয়োজনেই নবী প্রেরণ ২০০
নবী চেনার ক্ষেত্রে স্থান-কালের ব্যবধানগত সমস্যা ২০১
পূর্ববর্তী নবীদের অস্তিত্ব ও নবুওয়াত অন্ধ বিশ্বাস ভিত্তিক ২০১
কোরআন ব্যতীত সব গ্রন্থই মানবরচিত ২০৫
মু‘জিযাহ্ই চূড়ান্ত প্রমাণ ২০৯
যার কোনো নবী নেই ২১০
বিচারবুদ্ধির দৃষ্টিতে নবুওয়াতে মুহাম্মাদী (ছ¡াঃ) ২১৩
শ্রেষ্ঠতম ও সর্বোত্তম মানুষ ২২০
প্রতিশ্রুত নবী ২২১
অবিকৃত কোরআন ২২৬
কোরআন ঃ অবিনশ্বর মু‘জিযাহ্ ২৩২
খাত্মে নবুওয়াত ঃ ইসলাম-গৃহের ভিত্তি ২৪১
কাউকে নবী মানা-নামানা ধর্ম পৃথক হওয়ার কারণ ২৪২
‘মোহর ধারণের’ অপযুক্তি ২৪৪
বিচারবুদ্ধির আলোকে হযরত মুহাম্মাদের (ছ¡াঃ) উত্তরাধিকারিত্ব ২৪৭
কেন এ বিষয়ে আলোচনা ২৪৭
ফয়ছ¡ালাহ্র মানদ- ২৪৯
রাসূলুল্লাহ্র (ছ¡াঃ) স্থলাভিষিক্ত নির্ধারণের দায়িত্ব কা’র? ২৫০
রাসূলুল্লাহ্র (ছ¡াঃ) উত্তরাধিকারিত্ব ঃ বিচারবুদ্ধির দাবী ২৫২
ইমাম মাহ্দী (‘আঃ) সম্পর্কে মতপার্থক্য ২৫৬
আহ্লে বাইতের (‘আঃ) ইমামগণ ও আহ্লে সুন্নাত ২৫৮
রাসূলুল্লাহ্র (ছ¡াঃ) স্থলাভিষিক্ততা বিতর্কের প্রায়োগিক গুরুত্ব ২৬৫
দ্বীনী তথ্যসূত্রসমূহের ক্রমবিন্যাস ও অগ্রাধিকার ২৬৬
ইমাম মাহ্দী (‘আঃ)-এর আবির্ভাবপূর্ব দ্বীনী নেতৃত্ব ২৬৯
ইজতিহাদে মতপার্থক্য ও তার ক্ষেত্র ২৮২
কৃতজ্ঞতা ২৯৩
পরিশিষ্ট-১ ঃ
ডারউইন-তত্ত্ব ঃ বিজ্ঞানের নামে অন্ধ বিশ্বাস ২৯৫
পরিশিষ্ট-২ ঃ
স্রষ্টা ও পরকাল অস্বীকার ঃ বিজ্ঞানের নামে স্টিফেন হকিং-এর অজ্ঞতা৩০৫
বিগ্ ব্যাং তত্ত্বের মৌলিক দুর্বলতা ৩০৫
সৃষ্টিজগতে স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রমাণ ৩০৮
পরকালীন জীবন ৩১৪

 

ভূমিকা

মহান আল্লাহ্ তা‘আলার প্রতি লাখ লাখ শুকরিয়া যে, তিনি আমাকে অত্র গ্রন্থের পা-ুলিপি পরিমার্জিতভাবে প্রস্তুত করার তাওফীক্ব দিয়েছেন।
মূল পান্ডুলিপিটি প্রাথমিকভাবে প্রায় দুই দশক কাল পূর্বে প্রস্তুত করি এবং ২০১৩ সালের শেষ নাগাদ পরিমার্জিত রূপ প্রদান করি। পরে এটি ধারাবাহিক নোট আকারে ফেস্বুকে প্রকাশ করি।
এ গ্রন্থের প্রথম দিককার কয়েকটি প্রবন্ধ খৃস্টীয় বিংশ শতাব্দীর নব্বই-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকায় পর্যায়ক্রমে প্রকাশিত হয়েছিলো এবং এগুলোর মধ্য থেকে কয়েকটি প্রবন্ধ পরিমার্জিত রূপে সাপ্তাহিক রোববার-এ পুনঃপ্রকাশিত হয়। এছাড়া প্রথম দিককারই কোনো কোনো প্রবন্ধ দৈনিক আল-মুজাদ্দেদ-এ ও দৈনিক দিনকাল-এ প্রকাশিত হয়েছিলো। (এগুলোর প্রকাশে যারা ভূমিকা পালন করেছিলেন আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁদেরকে শুভ প্রতিদান প্রদান করুন।) তবে প্রথম দিককার কোনো কোনো প্রবন্ধ এবং শেষের দিককার প্রবন্ধগুলো (দু’টি পরিশিষ্ট বাদে – যা কম্পিউটারে কম্পোজ করা হয় ও পত্রিকায় প্রকাশিত হয়) হাতে লেখা পান্ড-ুলিপি আকারেই ছিলো; কোনো পত্রিকায় প্রকাশিত হয় নি। প্রবন্ধগুলোর কম্পিউটার কম্পোজ আমাকে নিজেকেই করতে হয়েছে এবং তা করার সময় প্রয়োজনীয় বিবেচনায় অধিকতর পরিমার্জনের চেষ্টা করেছি।
অত্র গ্রন্থে সর্বজনীন সুস্থ বিচারবুদ্ধি (عقل سليم عمومی)-এর আলোকে আমাদের ইন্দ্রয়গ্রাহ্য জগতের অন্তরালে নিহিত মহাসত্য সংক্রান্ত প্রশ্নগুলোর জবাব উদ্ঘাটন করা হয়েছে এবং আশা করছি যে, তা যথাযথভাবেই করা সম্ভব হয়েছে। সর্বজনীনন সুস্থ বিচারবুদ্ধি নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করে এ সব প্রশ্নের যে জবাব উদ্ঘাটন করে তা এবং জীবন ও জগতের পিছনে নিহিত মহাসত্য সম্বন্ধে ইসলাম-প্রদত্ত জবাব অভিন্ন লক্ষ্য করা যায়।
অত্র লেখক একজন জন্মসূত্রে মুসলমান এবং আজীবন ইসলামের খেদমতে আত্মনিয়োজিত বিধায় কেউ হয়তো মনে করতে পারেন যে, ইসলামের মৌলিক ভিত্তিসমূহকে সত্য প্রমাণ করা ও প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ গ্রন্থ রচনা করা হয়েছে। কিন্তু তাঁদেরকে এ নিশ্চয়তা দিতে পারি যে, জন্মসূত্রে এ সত্যের সাথে পরিচিত হলেও এখানে সত্যকে সম্পূর্ণরূপে নিরপেক্ষভাবে ও কেবল সর্বজনীন সুস্থ বিচারবুদ্ধির আলোকে উদ্ঘাটন করেছি। এ কারণেই পাঠক-পাঠিকাগণ লক্ষ্য করবেন যে, অত্র গ্রন্থের মৌলিক প্রতিপাদ্য বিষয় সমূহের কতক শাখা-প্রশাখাগত ব্যাপারে সমাজে ইসলামের নামে প্রচলিত ধ্যান-ধারণা থেকে স্বতন্ত্র উপসংহারে উপনীত হয়েছি; নিরপেক্ষভাবে সর্বজনীন সুস্থ বিচারবুদ্ধির রায় অনুসরণ করার ফলেই এমনটি হয়েছে। অর্থাৎ অত্র গ্রন্থকারের মতে, যেহেতু ইসলাম তার মৌলিক ভিত্তিসমূহকে সর্বজনীন সুস্থ বিচারবুদ্ধির আলোকে উপস্থাপন করেছে, সেহেতু ইসলামের নামে প্রচলিত ধারণাসমূহ নয়, বরং সর্বজনীন সুস্থ বিচারবুদ্ধি যে উপসংহারে উপনীত হয়েছে তা-ই ঐ সব বিষয়ে প্রকৃত ইসলামী মত।
বস্তুতঃ অত্র গ্রন্থ রচনার ভিত্তিভূমি তৈরীর পিছনে গ্রন্থকারের আজীবন অধ্যয়নের একটি গুরুত্ব্পূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু এ কাজ করতে গিয়ে কেবল ইসলামের ধ্যান-ধারণাকে নয়, বরং এ বিষয়ে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ধর্ম ও দর্শনের ধ্যান-ধারণা এবং নাস্তিক্যবাদী তত্ত্বসমূহকেও পর্যালোচনামূলক দৃষ্টিকোণ থেকে অধ্যয়ন করেছি ও সর্বজনীন সুস্থ বিচারবুদ্ধির আলোকে বিশ্লেষণ করে উপসংহারে উপনীত হয়েছি। তারপরও যেহেতু বিচারবুদ্ধি ভুল করতে বা প্রভাবিত হতে পারে, অন্যদিকে বিচারবুদ্ধির ভুলভ্রান্তি নির্দেশ ও সংশোধনের কাজও স্বয়ং বিচারবুদ্ধির পক্ষেই সম্ভব, সেহেতু মুক্ত ও সুস্থ বিচারবুদ্ধির অধিকারী পাঠক-পাঠিকাগণ, বিশেষ করে অমুসলিমগণ এ গ্রন্থে উপস্থাপিত যুক্তিসমূহকে বিচারবুদ্ধির আলোকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এতে কোনো দুর্বলতা পেলে তা গ্রন্থকারকে ফেসবুকে মেসেজ-এর মাধ্যমে জানাতে পারেন এবং সে ক্ষেত্রে তাঁদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে দেখা হবে; গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হলে অবশ্যই গ্রহণ করা হবে এবং তার আলোকে গ্রন্থটি পরবর্তী সংস্করণে সংশোধন করা হবে, ইন্ শাাআল্লাাহ্।
অনেক মুসলিম পাঠক-পাঠিকার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, ইসলামের সত্য দ্বীন হওয়ার ব্যাপারে যেখানে সন্দেহের অবকাশ নেই সেখানে ইসলামের মৌলিক উপস্থাপনাসমূহকে বিচারবুদ্ধির আলোকে নতুন করে উদ্ঘাটনের কী প্রয়োজন রয়েছে? এ প্রশ্নের জবাবে বলবো, দু’টি কারণে এর প্রয়োজন রয়েছে। প্রথমতঃ এ দেশে ও বিশ্বে মুসলমানের সংখ্যা যতো বেশীই হোক না কেন, ইসলাম কোনো সুনির্দিষ্ট সংখ্যক মুসলমান পেয়ে সন্তুষ্ট নয়, বরং বিশ্বের বুকে একজন অমুসলিমও বর্তমান থাকতে তার নিকট সত্যকে তুলে ধরা মুসলমানদের ঈমানী দায়িত্ব। কিন্তু কোনো অমুসলিমের কাছে সত্যকে তুলে ধরতে হলে তা ‘কোরআনে বলা হয়েছে’ যুক্তিতে তুলে ধরলে তা তার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না, কারণ, সে তো কোরআনকে ঐশী গ্রন্থ জ্ঞান করে না। তাই তার নিকট গ্রহণযোগ্য মানদ-ে অর্থাৎ সর্বজনীন সুস্থ বিচারবুদ্ধির আলোকে সত্যকে পেশ করতে হবে। আর এটা করতে হলে প্রথমে স্বয়ং মুসলমানকে বিষয়টি এ মানদ-ের আলোকে জানতে হবে। দ্বিতীয়তঃ অন্ধ বিশ্বাস সর্বাবস্থায়ই ঝুঁকিপূর্ণ ও ঠুনকো, এমনকি ঘটনাক্রমে তা সত্য হলেও (যদিও অনেক অন্ধ বিশ্বাসই ভ্রান্ত হয়ে থাকে)। কারণ, বাস্তবতার আঘাতে অথবা কোনো সঠিক বা বিভ্রান্তিকর ভ্রান্ত যুক্তির আঘাতে যে কোনো সময় এ বিশ্বাস ভেঙ্গে যেতে পারে। ইতিহাসে ও যে কারো অভিজ্ঞতায় এর ভুরি ভুরি দৃষ্টান্ত পাওয়া যাবে। অতএব, সত্যকে সর্বজনীন সুস্থ বিচারবুদ্ধির মানদ-ে জেনে নিলে কোনো বাস্তবতা বা কোনো বিভ্রান্তিকর অপযুক্তিই ব্যক্তির মন-মগয থেকে সে সত্যকে মুছে দিতে ও তাকে পথভ্রষ্ট করতে সক্ষম হবে না।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা প্রয়োজন মনে করি যে, জীবন ও জগতের অন্তরালে নিহিত মহাসত্য সম্পর্কে বিচারবুদ্ধির রায় উদ্ঘাটন করার মানে এ নয় যে, এ বিষয়টি এখানেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। কারণ, বিচারবুদ্ধি যা উদ্ঘাটন করে তা হচ্ছে সত্যসমূহের মৌলিকতম ও সংক্ষিপ্ততম রূপ। এ ব্যাপারে জানার এখানেই শেষ নয়। আর যেহেতু সর্বজনীন সুস্থ বিচারবুদ্ধির মানদ-ে কোরআন মজীদ অকাট্য সত্য এবং পূর্ণাঙ্গ, সর্বশেষ ও একমাত্র সংরক্ষিত ঐশী গ্রন্থ হিসেবে প্রমাণিত হয়, সেহেতু অতঃপর তাকে এ সব সত্য সম্পর্কে কোরআন মজীদ থেকে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে কোরআন মজীদের সঠিক তাৎপর্য গ্রহণেও সর্বজনীন সুস্থ বিচারবুদ্ধি সহায়তা করে। কারণ, কোরআন মজীদের সঠিক তাৎপর্য গ্রহণে এর পাঠক-পাঠিকাদের মধ্যে যে সব মতপার্থক্যের উদ্ভব ঘটে তার অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে প্রথমতঃ একে ঐশী গ্রন্থ হিসেবে সর্বজনীন সুস্থ বিচারবুদ্ধির রায়ের ভিত্তিতে গ্রহণ না করে অন্ধ বিশ্বাসের ভিত্তিতে গ্রহণ করা, দ্বিতীয়তঃ এর তাৎপর্য গ্রহণে সর্বজনীন সুস্থ বিচারবুদ্ধিকে অন্যতম সহায়ক শক্তি হিসেবে গ্রহণ না করা ও অন্যান্য পূর্বপ্রস্তুতির অভাব।
কোরআন মজীদের তাৎপর্য গ্রহণের লক্ষ্যে বিভিন্ন মনীষী যে সব মানদ- উদ্ঘাটন করেছেন সেগুলোর মধ্যে যেমন কতক ক্ষেত্রে পারস্পরিক অভিন্নতা রয়েছে, তেমনি কতক ক্ষেত্রে পারস্পরিক বিভিন্নতাও রয়েছে এবং ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্যের জন্য মতের এ বিভিন্নতা সবচেয়ে বড় কারণ। এমতাবস্থায় সকলের জন্যে সমভাবে গ্রহণযোগ্য মানদ- সর্বজনীন সুস্থ বিচারবুদ্ধিকে অন্যতম মানদ- হিসেবে গ্রহণ করে নিলে এবং তার আলোকে তাঁদের মতপার্থক্যের মূলনীতি সমূহকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে গ্রহণ-বর্জন করলে নিঃসন্দেহে তাঁদের মধ্যে মতপার্থক্য হ্রাস পেতে বাধ্য।
মূলতঃ ইসলামের মৌলিক ভিত্তিসমূহকে সর্বজনীন সুস্থ বিচারবুদ্ধির আলোকে গ্রহণ না করে অন্ধভাবে গ্রহণ করার ফলেই শাখা-প্রশাখাগত দিকসমূহে কতক ভিত্তিহীন ভ্রান্ত বিশ্বাসকে ইসলামী ধারণা নামে গ্রহণ করা হয়েছে এবং এর ফলেই অনেক বিষয়ে মুসলমানদের নিজেদের মধ্যে পরস্পর-বিরোধী বিভিন্ন ধারণা ও বিতর্ক বিস্তারলাভ করেছে। কিন্তু ইসলামের মৌলিক ভিত্তিসমূহকে প্রথমে সর্বজনীন সুস্থ বিচারবুদ্ধির আলোকে গ্রহণ করা হলে এ জাতীয় বিতর্কের ও ধারণার ক্ষেত্রে পারস্পরিক বৈপরীত্যের অবসান ঘটতে বাধ্য। অতঃপর কোরআন মজীদ অধ্যয়ন করলে তার অনেক আয়াত থেকে এমন তাৎপর্য ধরা পড়বে যা অন্ধ বিশ্বাস ভিত্তিক ধারণা থেকে ভিন্ন এবং তা বহু বিতর্ক ও বিভ্রান্তির অবসান ঘটাতে সক্ষম হবে।
তেমনি সর্বজনীন সুস্থ বিচারবুদ্ধি হাদীছ যাচাই-বাছাই করে গ্রহণ-বর্জনেও সাহায্য করে। এখানে উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করা যায় যে, যেহেতু সর্বজনীন সুস্থ বিচারবুদ্ধি কোরআন মজীদের আয়াতের হুকুম বা পাঠ মান্সূখ্ (রহিত) হওয়ার ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করে (বরং কোরআন মজীদকে নাাসেখ্ ও পূর্ববর্তী আসমানী কিতাাব সমূহকে মান্সূখ্ বলে গণ্য করে), সেহেতু এর ভিত্তিতে সর্বজনীন সুস্থ বিচারবুদ্ধির কাছে কোরআনের বহু আয়াতের তাৎপর্য কোরআনের আয়াতের হুকুম বা পাঠ মান্সূখে বিশ্বাসীদের দ্বারা গৃহীত তাৎপর্য থেকে ভিন্নতর রূপে ধরা পড়বে। দৃশ্যতঃ কোরআন মজীদের যে সব আয়াতে কোনো কোনো নবীর (‘আঃ) ওপর গুনাহ্ আরোপিত হয়েছে বলে মনে হয় সে সব আয়াতের ক্ষেত্রেও তা-ই। তেমনি খেজুর গাছে ফুল পিটিয়ে দেয়া সংক্রান্ত যে হাদীছটি বর্ণনা করা হয় Ñ যার ভিত্তিতে বলা হয় যে, হযরত রাসূলে আকরাম (ছ¡াঃ) অনেক পার্থিব ব্যাপারে তাঁর সঠিক জ্ঞান না থাকার কথা স্বীকার করেছেন, সেটির ক্ষেত্রেও তা-ই। কারণ, সর্বজনীন সুস্থ বিচারবুদ্ধির অকাট্য রায় এই যে, যেহেতু নবীর জন্য তথ্যের ব্যাপারে ভুলের উর্ধে থাকা অপরিহার্য, সেহেতু তিনি কোনো বিষয়ে না জানলে সে বিষয়ে কোনো মত প্রকাশ করা হতে বিরত থাকবেন; না জানা সত্ত্বেও মত প্রকাশ করবেন না। কারণ, যে বিষয়ে জানা নেই সে বিষয়ে মত প্রকাশ করা সাধারণ মানুষের জন্যও অনিচ্ছাকৃত ভুলের চেয়েও গুরুতর ও গর্হিত কাজ, সুতরাং তা নবীর মর্যাদার গুরুতর বরখেলাফ। অতএব, সর্বজনীন সুস্থ বিচারবুদ্ধি উক্ত হাদীছকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত ও প্রত্যাখ্যান করে।
সর্বজনীন সুস্থ বিচারবুদ্ধির দলীলের ব্যবহার সম্পর্কে উল্লেখ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা এই যে, এ ধরনের দলীল যদি ব্যক্তিবিশেষের পক্ষ থেকেও উপস্থাপন করা হয় তথাপি তাকে ব্যক্তিবিশেষের বক্তব্য হিসেবে গণ্য করা উচিত হবে না। কারণ, সর্বজনীন সুস্থ বিচারবুদ্ধির দলীল হচ্ছে সর্বজনীন দলীল। এমতাবস্থায় পাঠক-পাঠিকাগণ যখন অত্র গ্রন্থে উপস্থাপিত বক্তব্যকে সুস্থ বিচারবুদ্ধির রায় হিসেবে দেখতে পাবেন এবং অন্যত্র তা ব্যবহার করবেন তখন তাকে অত্র লেখকের উপস্থাপিত যুক্তি হিসেবে পেশ করা বা উদ্ধৃত করা উচিত হবে না, বরং তাকে সর্বজনীন সুস্থ বিচারবুদ্ধির রায় হিসেবে পেশ করাই উচিত হবে। কারণ, বিচারবুদ্ধির দলীল ব্যক্তিবিশেষ উদ্ঘাটন করলেও তা ব্যক্তিবিশেষের সম্পদ নয়, বরং সকলের সম্পদ; ব্যক্তিবিশেষ তা উদ্ঘাটন করেছে মাত্র। এ ধরনের কোনো দলীল ব্যক্তিবিশেষের বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা হলে তাতে বরং সংশ্লিষ্ট দলীলের গুরুত্ব হ্রাস পাবে। বলা বাহুল্য যে, এই একই কারণে অত্র গ্রন্থে সর্বজনীন সুস্থ বিচারবুদ্ধির যে সব দলীল পেশ করা হয়েছে তার মধ্য থেকে অনেক দলীলই অনেক মনীষী লেখকের গ্রন্থ অধ্যয়ন থেকে পাওয়া গেলেও তা তাঁদের যুক্তি হিসেবে পেশ করা হয় নি, বরং সর্বজনীন সুস্থ বিচারবুদ্ধির রায় হিসেবে পেশ করা হয়েছে।
অত্র গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত প্রথম প্রবন্ধটি (বিচারবুদ্ধি ও ইসলাম) সম্পর্কে কৈফিয়ৎ দেয়া প্রয়োজন মনে করছি যে, সর্বজনীন সুস্থ বিচারবুদ্ধির দলীল ভিত্তিক এ গ্রন্থের শুরুতে কোরআন মজীদের দলীল ভিত্তিক উক্ত প্রবন্ধটি অন্তর্ভুক্তকরণের উদ্দেশ্য হচ্ছে Ñ মূল প্রবন্ধে যেমন উল্লেখ করা হয়েছে Ñ মুসলমানদের মধ্যে বিচারবুদ্ধির বিরোধিতার যে একটি প্রবণতা গড়ে উঠেছে সে ভ্রান্তি থেকে মুক্ত করে তাদেরকে সর্বজনীন সুস্থ বিচারবুদ্ধির মহাসড়কে উঠে আসতে সহায়তা করা। তাই এ হিসেবে উক্ত প্রবন্ধটি অত্র ভূমিকারই একটি সম্প্রসারিত অংশ মাত্র। প্রকৃত পক্ষে মূল গ্রন্থ শুরু হয়েছে ‘জীবন জিজ্ঞাসার জবাব সন্ধানে জ্ঞানতত্ত্বের পথনির্দেশ’ প্রবন্ধ থেকে।
পরিশিষ্টের প্রবন্ধ দু’টি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত বিচ্ছিন্ন প্রবন্ধ, কিন্তু বিষয়বস্তু অত্র গ্রন্থের বিষয়বস্তুর সাথে সংশ্লিষ্ট বিধায় গ্রন্থের ধারাবাহিকতায় ঊভয় প্রবন্ধের কতক বক্তব্য অভিন্ন বা পুনরাবৃত্তিমূলক। এতদ্সত্ত্বেও কিছু অতিরিক্ত বক্তব্য থাকায় এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা বিধায় স্বতন্ত্রভাবে তা গ্রন্থশেষে স্থান দেয়া হলো।
সব শেষে আরো দু’টি বিষয় উল্লেখ করা যরূরী মনে করছি। প্রথমতঃ যেহেতু মুসলমানদেরকে যে কোনো কাজের শুরুতে কোরআন মজীদের আয়াত “বিসমিল্লাার্হি রাহ্মাার্নি রাহীম্” ও ভবিষ্যত কাজের ইচ্ছা বা সিদ্ধান্ত উল্লেখ করতে গিয়ে যে “ইন্ শাাআল্লাাহ্” বলতে হয় তা ছ¡হীহ্ভাবে উচ্চারণ করা অপরিহার্য বিধায় এ ক্ষেত্রে এবং বাংলা ভাষায় কম প্রচলিত কোনো কোনো ইসলামী পরিভাষা, যেমন ঃ ‘আালামে র্বাযাখ্, ‘আক্ব্ল্্ ইত্যাদির ক্ষেত্রে অত্র গ্রন্থে যথাসাধ্য হুবহু আরবী উচ্চারণ প্রতিফলিত করার চেষ্টা করেছি: ফলতঃ যবর-এর পরে আালিফ্ (ا) থাকার ক্ষেত্রে টেনে পড়া বুঝাতে ডবল আ-কার (াা), ‘আইন্ (ع) হরফের জন্য উল্টা কমা (‘), আলেফ্ বা হামযাহ্ সাকিন্ (ا/ء)-এর জন্য লোপ চিহ্ন (’), পেশের পরে ওয়াও (و)-এর বেলায় দীর্ঘ ঊ-কার ( ূ) ও যের-এর পরে ইয়াা (ی)-র ক্ষেত্রে দীর্ঘ ঈ-কার ( ী) ব্যবহার করেছি। তেমনি যে সব আরবী হরফের জন্য প্রচলিত নিয়মে অভিন্ন হরফ ব্যবহার করা হয়, অথচ সে সবের মূল আরবী উচ্চারণে অনেক পার্থক্য বিধায় ঐ সব হরফ বিশিষ্ট শব্দে অভিন্ন বর্ণ ব্যবহারে তাৎপর্যের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে, এ কারণে সে সব ক্ষেত্রে ঐ সব হরফের ্উচ্চারণকে সাধারণতঃ আলাদা করে লেখার চেষ্টা করেছি, যেমন : হাদীছ্, ছ¡হীহ্, ফয়ছ¡ালাহ্, যরূরী, ময্বূত্ ইত্যাদি। এছাড়া কতক সাধারণ বাংলা শব্দের ক্ষেত্রেও (সকল শব্দের ক্ষেত্রে নয়) উচ্চারণের সঠিক প্রতিফলন ঘটানোর লক্ষ্যে নিজস্ব বানানরীতি অনুসরণ করেছি; যেমন ঃ মতো, যতো, ততো, ছিলো, করবো ইত্যাদি। সুতরাং এগুলো অনিচ্ছাকৃত লেখার ভুল বা ছাপার ভুল নয়।
দ্বিতীয়তঃ বাংলা ভাষায় সর্বজনীন সুস্থ বিচারবুদ্ধির আলোকে তথা যুক্তিবিজ্ঞান ও দর্শনের আলোকে দ্বীনের মৌলিক ভিত্তিসমূহ সম্পর্কিত পূর্ণাঙ্গ আলোচনা আমার জানামতে এটাই প্রথম। এ কারণে অত্র গ্রন্থের ভাষা অনেক পাঠক-পাঠিকার কাছে কিছুটা কঠিন মনে হতে পারে, কিন্তু আমি নিশ্চিত যে, একাধিক বার পাঠে তা সহজবোধ্য হয়ে আসবে, ইন্ শাাআল্লাাহ্।
সব শেষে, অত্র গ্রন্থ পাঠক-পাঠিকাদের সামনে জীবন ও জগতের অন্তরালে নিহিত মহাসত্যের দরযাহ্ উন্মুক্ত করে দেয়ার কাজে সফল হয়ে থাকলেই আমার শ্রমকে সার্থক গণ্য করবো। আল্লাহ্ তা‘আলা অত্র গ্রন্থকে এর লেখক এবং এর প্রকাশ ও প্রচার-প্রসারের সাথে জড়িত সকলের জন্য অনন্ত জীবনের পাথেয় হিসেবে কবূল করে নিন। আমীন।

বিনীত

নূর হোসেন মজিদী

ঢাকা
২৫শে যিল্-ক্বাদ ১৪৪০
১৪ই শ্রাবণ ১৪২৬
২৯শে জুলাই ২০১৯।

 

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “জীবন জিজ্ঞাসা”

Your email address will not be published.

Quality
Price
Service