বইটি কেন পড়বেন?

আমাদের এ উপমহাদেশে ভালোবাসা, ন্যায় ও প্রশান্তির এ মহান ধর্ম তথা ইসলাম যে ব্যাপকতা লাভ করেছে, তা মূলত মহান আউলিয়া কেরাম )رَحِمَهُمُ الله( গণের কঠোর পরিশ্রম ও ব্যাপক সংগ্রামের ফসল। মহান সে সত্তাগণের কর্ম ও শিক্ষা দ্বারা মুসলিম-অমুসলিম বিবেচনায় সকল মানুষ ও সৃষ্টিকুল যে উপকার লাভ করেছে, তারই ফলশ্রুতিতে তাঁদের ইন্তেকালের পর তাঁদের পবিত্র কবরসমূহ তাঁদের ভক্ত, অনুসারী, ও অনুরাগী গণের জন্য যিয়ারতের স্থান হয়ে ওঠে।

সমস্যাটি তখন হয়, যখন তাঁদের সে সমাধিস্থলকে কেন্দ্র করে কিছু ব্যক্তি এমন কার্যক্রম শুরু করেন, যা ইসলামিক Code of Conduct তথা শরিয়তের সাথে সাংঘর্ষিক। নিঃসন্দেহে এরূপ কর্মসমূহ যা প্রকৃতপক্ষেই শরিয়তবিরোধী, সেগুলো সন্দেহাতীতভাবে পরিত্যাজ্য। মূলত এ ধরণের কার্যক্রমসমূহ এরুপ ব্যক্তিগণের দ্বারাই সম্পন্ন হয়ে থাকে যাদের বোধশক্তি দুর্বল ও ইসলামী জ্ঞান অপরিপক্ক। প্রকৃতপক্ষেই যারা ইসলামী আধ্যাত্মিকতা তথা তাসাওউফ ও তরিকত চর্চা করেন, এরূপ উলামা ও মাশায়েখে কেরাম যুগ যুগ ধরে এরুপ কর্মকান্ডের বিরোধীতা করেছেন, এবং এখনো করেন।

কিন্তু সমস্যাটি আরও বেশি জটিল মূলত হয় তখন, যখন আউলিয়ায়ে কেরাম )رحمهم الله( গণের “যিয়ারত” কে জোড়পূর্বক বলে দেয়া হয় ইবাদত, শুধুমাত্র “সম্মান প্রদর্শন” কেও যখন বানিয়ে ফেলা হয় পূজা! যখন একটি সুন্দর ও পবিত্র বিষয় যা মূলত “মহান আল্লাহর বন্ধুগণের প্রতি অনুরাগের দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন” এর জন্যই করা হয়; সেটিকেও উপস্থাপন করা হয় কুসংস্কার, শিরক, বিদআত আকারে।

ইসলামের রুহানী তথা আধ্যাত্মিক শক্তিকে দুর্বল করার লক্ষ্য শুধুমাত্র ইসলামের মানবশত্রুদেরই নয়। বরং বিষয়টি তার থেকেও বেশি জটিল, এখানে খেলাটি মূলত শয়তানী শক্তির। কেননা, “রাহমানী শক্তি: থেকে মানুষ যতই দূরে থাকবে, তাদের প্রভাব বিস্তার ততই সহজ হবে। এবং এ লক্ষ্যকে আঞ্জাম দেয়ার জন্য তারা ইসলামের আধ্যাত্মিক শক্তির ওপর আক্রমণে লিপ্ত, ভেতর ও বাহির উভয় দিক থেকে। যার ফলাফল হচ্ছে-আউলিয়ায়ে কেরাম )زجمَهُمُ الله( গণের সমাধিস্থল তথা মাযার সমূহ নিয়ে একপক্ষের “বাড়াবাড়ি”, এবং ঠিক তার বিপরীতে এক পক্ষের ছাড়াছাড়ি!

এক পক্ষ তাদের “বাড়াবাড়ি”র দ্বারা ইসলামের প্রাণশক্তি তথা তাসাওউফের প্রকৃত চিত্রকে ঢেকে দিচ্ছে, ঠিক তার অপরদিকে আরেক পক্ষ সমগ্র তাসাওউফ বা মাযারের প্রতি বিদ্বেষ ছড়িয়ে নিজেরাও ইসলামের আধ্যাত্মিক বাস্তবশক্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং অপরকেও করছে বঞ্চিত! উভয় দিক দিয়েই এর ফলাফল হচ্ছে প্রকৃত তাসাওউফ ও আধ্যাত্মিকতার থেকে সাধারণ মুসলিমদের দূরে সরে যাওয়া। মুসলিম উম্মাহ “রাহমানী শক্তি” থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, এবং এর ফলাফল হচ্ছে- ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গন পযন্ত শয়তানী শক্তির উত্থান! রাজনৈতিক বা বড় আঙ্গিকে যদি উদাহরণ দেই, তাহলে এর ফলাফল হচ্ছে- ‘New World Order’ এবং মুসলিম উম্মাহর ওপর শোসন-দমণ-পীড়ণ! আর যদি ব্যক্তি বা সামাজিক জীবনের একটি ছোট উদাহরণই দেই- আজ আমাদের অবস্থা এরূপে দাঁড়িয়েছে যে বদজ্বীন ও যাদুর সমস্যা আমাদের শহর ও গ্রামাঞ্চলে অত্যাধিক আকার ধারণ করেছে! রাকীদের পেছনে ব্যাপক অর্থ খরচ করেও আমরা সম্পূর্ণ শিফা পেয়ে উঠতে পারি না! যাদুজনিত সমস্যাগুলো ছাড়াও, আমাদের জীবনে আমাদের ভুলত্রুটি ও বিবিধ কারণে সমস্যাসমূহ বিদ্যমান! দোয়া-কালাম করে বা বিবিধ নেক কার্যক্রমের দ্বারাও আমরা সেগুলো থেকে পরিত্রাণ পেয়ে উঠতে পারি না। অথচ একটি সময় এমন ছিলো যে, সে সময় এরুপ সমস্যাসমূহ তুলনামূলকভাবে সহজেই সমাধান করা সম্ভব হতো! হয়ত এ কারণে যে, সে সময় আল্লাহর প্রিয় বান্দাহগণের নিকটে যেয়ে তাঁদের উসিলায় আল্লাহর নিকটে চাওয়া হতো! এবং এরূপ যিয়ারত ও দুআর দ্বারা এ কারণে ফলাফল পাওয়া যেত (এবং এখনো পাওয়া যায়) যে- যে স্থানে আল্লাহর কোনো প্রিয় বন্ধু অবস্থান করেন, সে স্থানে অনবরত রহমত নাযিল হওয়ার কারণে দুআ কবুলের সম্ভাবনাও অধিক থাকে!

হ্যাঁ, নিঃসন্দেহে সে ফলাফলের আশায় অনেকে করে ফেলেন বাড়াবাড়ি, কিন্তু তার জন্য ছাড়াছাড়ি তো সমাধান হতে পারে না! সঠিক নিয়ম হচ্ছে কিভাবে সঠিক ও সুন্নাহ সম্মত নিয়মে আউলিয়া গণের )رَحِمَهُمُ الله( যিয়ারত করা উচিত- তা মানুষদের শেখানো। কিন্তু তা না করে আমাদেরকে আজ আউলিয়া গণের থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে, মাযার যিয়ারত, সেখানে দুআ-কালাম পাঠ, ও সম্মান প্রদর্শনের আমলসুমূহকেও বলা হচ্ছে গুনাহ-শিরক-বিদআ’ত। ইসলামের রুহানী শক্তি থেকে আমাদের করা হচ্ছে বঞ্চিত!

আদৌ কি এরূপ প্রচারণা, এরূপ বিবেচনা, বা এরূপ চিন্তাধারা ন্যায়সংগত? এ বইটির নিরপেক্ষ অধ্যয়ন আমাদেরকে বাস্তবরূপে ভাবাতে শেখাবে যে-বিষয়গুলো কতটুকু ন্যায়সংগত।

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “দ্যা মিথ অফ ‘মাজার পূজা’”

Your email address will not be published. Required fields are marked *