সামাজিক বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ

৳ 110.00

  • পবিত্র কোরআনের আলোকে
    সামাজিক বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ
  • লেখক : ডা. এ. এন. এম. এ. মোমিন
  • সম্পাদনায় : হুজ্জাতুল ইসলাম মোঃ ইন্তেখাব রাসূল
  • প্রকাশকাল : ২৫ মার্চ, ২০১৬ ঈসায়ী
  • প্রচ্ছদ : মোঃ শাহজাহান আলী
  • কৃতজ্ঞতায় : মুহিব্বিনে আহলে বাইত ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ।
  • পৃষ্ঠা সংখ্যা : ১১৬
  • স্বত্ব : আলে রাসূল পাবলিকেশন্স কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
  • ISBN: 978-984-91642-9-6

সূচিপত্র

মুখবন্ধ -৫
লেখকের কথা -৮
ভুমিকা -১৯
কুরআনের আলোকে সামাজিক বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ তথা খোদায়ী গজব-২৪
ইবাদত কি ও কেন? -৩০
কুরআনে বর্ণিত সামাজিক শাস্তি -৪১
সামাজিক বিপর্যয়ের কারণ Ñ৫৩
আল্লাহর ওলীদের পরিচয় ও মর্যাদা -৭০
রাসূল (দ.)-এর বিদায় হজের শেষ ভাষণ ও এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব -৭৪
সামাজিক অত্যাচার ও কার্পণ্যের কুফল -৯২
মহাবিশ্ব সৃষ্টি রহস্য ব্যাখ্যা প্রদানে বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা -৯৯
প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় সম্পর্কে পবিত্র কুরআন -১০৬
মানবীয় কষ্ট ও স্বস্তি -১০৯
মানবীয় আচরণ ও ঐশী দ-বিধান -১১২
উপসংহার -১১৯

মুখবন্ধ

‘ইসলাম’ হচ্ছে একটি সার্বিক জীবন ব্যবস্থা যা সর্বকালে, সর্বযুগে, সকল ক্ষেত্রে, সকল স্থানে সকল মানুষের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। ইসলাম চির গতিশীল, চিরন্তন ও শাশ্বত জীবন বিধান আর মহান ঐশী গ্রন্থ ‘কুরআন’ হচ্ছে ইসলামী জীবন ব্যবস্থার সংবিধান। স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির সম্পর্ক কী, স্রষ্টার প্রতি আনুগত্যের শর্তগুলো কী, আল্লাহর প্রতিনিধি বা খলিফা হিসেবে মানবের ভূমিকা কী, সমাজকে সুখী, সুন্দর ও সমৃদ্ধশালী করতে হলে মানবের করণীয় কী, মানুষের অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, পারিবারিক, ধর্মীয়, নৈতিক ও নীতিগত আচরণের স্বর্গীয় বা ঐশী নির্দেশনাগুলো কী প্রভৃতি এ মহা গ্রন্থ কুরআনে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। যাকিছু সুন্দর এবং কল্যাণকর তাই ইসলাম। ধর্ম এসেছে মানুষের জন্য, মানুষ ধর্মের জন্য আসেনি। মানুষ যদি জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর হুকুমকে মান্য করে, আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী চলে, তাহলে মহান আল্লাহ তায়ালা তার প্রতি সন্তুষ্ট হন এবং তাকে উভয় জগতে পুরস্কৃত করেন। আর যদি অন্যথা হয়, তাহলে মহান আল্লাহ তায়ালা তার প্রতি অসন্তুষ্ট হন এবং তার উপর বিভিন্নভাবে খোদার শাস্তি কিংবা গজব নিপতিত হয়, বিভিন্ন প্রকারের সামাজিক বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক দূর্যোগ নেমে আসে এ ধরাধামে। অর্থাৎ বিভিন্ন প্রকারের সামাজিক বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক দূর্যোগ হচ্ছে আল্লাহর হুকুম তথা কুরআন না মানার ফলশ্রুতি।
মানুষ যখন অবিচার, অনাচার, ব্যভিচার, কুসংস্কার, অন্যায়, খুন-খারাবী, রাহাজানি, দূর্নীতি, ধর্মহীনতা, সন্ত্রাস, বর্বরতা, অশ্লীলতা প্রভৃতি পাপে নিমজ্জিত হয়, তখন ধরাধামে সামাজিক বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক দূর্যোগ নেমে আসে এবং মানব সমাজ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। অতীতে আ’দ, সামুদ, বন নিবাসীসহ বহু জাতি কীভাবে ধ্বংস হয়েছে তার বিবরণ পবিত্র কুরআন মজিদে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহকে ভয় করা বা তাকওয়া’র উপর মহান আল্লাহ তায়ালা অত্যাধিক গুরুত্ব আরোপ করেছেন। ঐশীগ্রন্থ কুরআন হচ্ছে একটি অলৌকিক গ্রন্থ যা সকল শ্রেণীর, সকল বয়সের মানুষের গুণগত উৎকর্ষ সাধনের একটি আলোকবর্তিকা। কুরআনকে জানলে হবেনা, কুরআনকে আমল করতে হবে।
বিশিষ্ট ঐতিহাসিক, ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষক ডা. এ এন এম এ মোমিন তাঁর “পবিত্র কোরআনের আলোকে সামাজিক বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক দূর্যোগ” শীর্ষক গ্রন্থে এ সত্যটি অতি সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
সামাজিক বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণ কী, ইবাদত কী ও কেন, বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ইবাদতের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ এবং প্রকৃতি, তাগুত, শয়তান, জ্বীন ও ফেরেশতাদের ইবাদত এং প্রবৃত্তি পূজা প্রসঙ্গ, কুরআনের আলোকে সামাজিক শাস্তি প্রসঙ্গে, আল্লাহর ওলীদের পরিচয়-মর্যাদা, মহানবী (দ.)-এর বিদায় হজ্বের ভাষণ ও এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব, ওলীদের প্রকারভেদ ও আধ্যাত্মিক প্রশাসন, ইমামত ও উত্তরাধিকার, সামাজিক অত্যাচার ও কার্পণ্যের কুফল, মহাবিশ্ব সৃষ্টি রহস্যের ব্যাখ্যা প্রদানে বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা, মানবীয় কষ্ট ও স্বস্তি প্রভৃতি কুরআন-হাদীসের আলোকে এ গ্রন্থে অতি সুন্দরভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
মানুষ হচ্ছে ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ তথা সৃষ্টির সেরা জীব। এহেন সেরা জীব কীভাবে তার স্বভাব দোষে পশুর চাইতেও অধম হতে পারে সে বিষয়টিও লেখক কুরআন-হাদীসের আলোকে অতি সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। নবুয়তের পরিসমাপ্তির পর মহানবী (দ.)-এর বেলায়েতের উত্তরাধিকারী সাব্যস্ত হন আমীরুল মোমেনীন হযরত আলী (ক.) যিনি খেলাফতেরও যোগ্য উত্তরাধিকারী বটে। হযরত আলী (ক.)-এর পর হযরত ইমাম হাসান ও ইমাম হোসাইন সহ পরবর্তী ১২ জন ইমাম এবং বংশের ক্রমধারায় ওলীয়ে কামেলীনগণ বেলায়তের প্রবাহকে জারি রেখে চলেছেন যা’ হাশর পর্যন্ত বিদ্যমান থাকবে। এ ওলী-বুজুর্গদের হাতে মহান আল্লাহ তায়ালা আধ্যাত্মিক জগতের প্রশাসনের ভার ন্যাস্ত করেছেন। আল্লাহর জমীনে যখন বিপর্যয় ও দূর্যোগ আসে, তখন এই ওলীয়ে কামেলীনগণ জনগণ যাতে বিপর্যয় ও দূর্যোগ থেকে পরিত্রাণ পায় সেজন্য মহানবী (দ.)-এর সুপারিশ কামনা করে খোদার কাছে ফরিয়াদ করেন। ফলশ্রুতিতে মানব সমাজ মুক্তিলাভ করে। সুতরাং বিপর্যয় ও দূর্যোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য দেহ, মন, আত্মার পরিশুদ্ধি অত্যাবশ্যক এবং এ পরিশুদ্ধি অর্জনের জন্য ওলী-বুজুর্গের সোহবতের কোন বিকল্প নেই। বলাবাহুল্য, আল্লাহকে পেতে হলে মহানবী (দ.)-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, ভক্তি ও ভালবাসা থাকতে হবে এবং মহানবী (দ.)-এর ভালবাসা পেতে হলে তাঁর বেলায়তের উত্তরাধিকারী ওলী-বুজুর্গদের সান্নিধ্যে যেতে হবে এবং তাঁদেরকে ভালবাসতে হবে।
ঐশী বিধান অনুযায়ী ‘খেলাফত’ ও ‘ইমামত’ আহলে বাইত এবং তাঁদের উত্তরাধিকারী বংশধরদের হাতে ন্যস্ত থাকার কথা যার সুস্পষ্ট ঘোষণা মহানবী (দ.) গাদীরে খুম এবং বিদায় হজ্বের ভাষণে দৃপ্তকণ্ঠে উচ্চারণ করেছেন যা মহানবী (দ.)-এর তিরোধানের পর মুসলিম শাসনামলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ষড়যন্ত্রের কারণে পালিত হয়নি। মুসলিম বিশ্বের বিপর্যয় ও অধপতনের এটিও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ বলে লেখক পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত করেছেন।
পাশ্চাত্য বিশ্বে তথাকথিত ধর্ম নিরপেক্ষতা ও বিভিন্ন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার (যথা: পুঁজিবাদ, বাজার অর্থনীতি, সামন্তবাদ) ছদ্মাবরণে অনাচার, ব্যভিচার, যৌনাচার, শোষণ, বঞ্চনা, অপসংস্কৃতি, আধিপত্যবাদ যেভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সেটাও সামাজিক বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক দূর্যোগের অন্যতম কারণ বলে লেখক অভিমত প্রকাশ করেছেন। মোট কথা, ইসলাম থেকে দূরে সরে যাওয়ার ফলেই আজ আমাদের এ দূর্গতি, ভোগান্তি, অশান্তি ও বিপর্যয়। তাই সারা বিশ্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে ইসলামকে সঠিকভাবে অনুশীলন ও প্রয়োগ করতে হবে এবং আধ্যাত্মিক সাধকদেরকে ধর্মগুরু ও শাসনগুরু হিসেবে মানতে হবে ও তাঁদের সান্নিধ্যে যেতে হবে। কুরআন-হাদীসের শিক্ষাকে জীবনের সর্বস্তরে কাজে লাগাতে হবে। লেখক এ বিষয়গুলো বর্তমান গ্রন্থে অতি সুন্দরভাবে অকাট্য যুক্তি প্রমাণ ও ঐতিহাসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। বইটির আবেদন সর্বজনীন। সঙ্কাটাপন্ন বিশ্ব মানবতা এ গ্রন্থ পাঠে উপকৃত হবেন বলে আমার বিশ্বাস। বইটির ভাষাশৈলী সুন্দর, প্রাঞ্জল ও চমৎকার। আমি এমন একটি চমৎকার বই উপহার দেয়ার জন্য লেখককে অভিনন্দন জানাই এবং বইটির বহুল প্রচার ও সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করছি। আল্লাহুমা আমিন! বেহুরমতে সাইয়েদিল মুরছালিন।

ড. মুহম্মদ আবদুল মান্নান চৌধুরী
প্রফেসর ও প্রাক্তন চেয়ারম্যান
অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
এবং
বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক
সাবেক সভাপতি, মাইজভান্ডারী একাডেমী।

 

লেখকের কথা

ظَهَرَ ٱلْفَسَادُ فِى ٱلْبَرِّ وَٱلْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِى ٱلنَّاسِ لِيُذِيقَهُمْ بَعْضَ ٱلَّذِى عَمِلُواْ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ
قُلْ سِيرُواْ فِى ٱلأَرْضِ فَٱنْظُرُواْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلُ كَانَ أَكْثَرُهُمْ مُّشْرِكِينَ
“মানুষের কৃতকর্মের দরুণ স্থলে ও সমুদ্রে বিপর্যয় ছড়াইয়া পড়ে, যাহার ফলে উহাদিগকে উহাদের কোনো কোনো কর্মের শাস্তি তিনি আস্বাদন করান যাতে উহারা ফিরিয়া আসে। তোমরা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ কর এবং দেখ তোমাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কি হইয়াছে উহাদের অধিকাংশই ছিল মুশরিক।” [সুরা ৩০ রুম, আয়াত-৪১-৪২]
পবিত্র কোরআনে উক্ত আয়াত দ্বয়ের মাধ্যমে আল্লাহ আমাদেরকে জানিয়েছেন যে, দৃশ্যমান যত সামাজিক বিপর্যয় দেখতে পাওয়া যায় বা সমুদ্রে বা প্রকৃতিতে যে দূর্যোগ সংঘটিত হয় তার মূল কারণ মানুষের কৃতকর্ম। অর্থাৎ আল্লাহ যে জীবন বিধান মানুষের জন্য নবী-রাসুলদের মধ্যমে দান করেছেন তার ব্যাপক লংঘন তার প্রমাণ হিসাবে আল্লাহতায়ালা বিশ্ববাসীকে অতীতের ইতিহাস, পুরাকীর্তি, সভ্যতা সরেজমিনে পরিদর্শন করে ব্যাপক গবেষণা করে সেই সভ্যতার ধ্বংসের কারণ অনুসন্ধান করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। মানব জাতির দূর্ভাগ্য যে, তারা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সাথে সাথে ব্যাপকভাবে খোদাদ্রোহীতার পথ অবলম্বন করে অতীতে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। এই ধারা বর্তমানেও অব্যাহত আছে।
মহান রাব্বুল আলামিন মানব জাতির সবচেয়ে উপকারী বন্ধু। তিনি চান না যে, মানব জাতি তাঁর আদেশ অমান্য করে ক্ষতিগ্রস্থ হোক। তাই তিনি যুগে যুগে তাঁর নিয়োজিত নবী-রাসূলের মাধ্যমে এই শিক্ষাই দিয়েছেন যাতে তারা আল্লাহ বিদ্রোহের পথ অবলম্বন না করে। তাই আদম (আ.) থেকে শুরু করে মুহাম্মদ (দ.) পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা মানব জাতির পথ প্রদর্শণের জন্য যত নবী রাসুল পাঠিয়েছেন, তাদেরকে যে মূলমন্ত্র দিয়ে পাঠিয়েছেন তা হচ্ছে ‘তাওহীদ’। অর্থাৎ আল্লাহর একত্ব ও সার্বভৌমত্ব। স্থান, কাল, পাত্রভেদে আপাতদৃষ্টিতে দ্বীনের বা ধর্মের তথা জীবন ব্যবস্থার আইন-কানুন, দন্ডবিধি, বিয়ের আইন-কানুন, এবাদতের উপায় পদ্ধতি ইত্যাদি বিভিন্ন হয়েছে কিন্তু মূলমন্ত্র একচুলও বদলায়নি। এই সার্বভৌমত্বের, তাওহীদের অপর নাম ‘সেরাতুল মুস্তাকিম’, ‘দ্বীনুল কাইয়েম’, চিরন্তন, শাশ্বত, সনাতন জীবন পথ। আল্লাহ প্রদত্ত জীবন পথ বা জীবন দর্শন সম্পর্কে বুঝতে হলে আমাদের বুঝতে হবে যে মানুষ মূলত সামাজিক জীব এবং সে সমাজবদ্ধভাবে বসবাস করে। তার কারণ কোনো মানুষই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়; বরং জীবন ধারণের জন্য তাকে কোনো না কোনো কারণে অন্যের উপর নির্ভরশীল হতেই হয়। পরনির্ভরশীলতার কারণেই তাকে সমাজবদ্ধভাবে বসবাস করতে হয়। সমাজবদ্ধ জীবন যাপন করতে গেলে মানুষকে একটি সঠিক ভারসাম্যপূর্ণ, ন্যায়-নীতি ভিত্তিক নিয়ম-নীতি, আইন-কানুনের অর্থাৎ সিস্টেমের মধ্যে বাস করতে হয়। যে সিস্টেমের মধ্যে জীবনের বিভিন্ন বিষয়ের নিয়ামক থাকতে হয়। এই সিস্টেম বা নিয়ামককে জীবন ব্যবস্থা বলা যায়। স্বভাবতই মানুষ ধারণা করে জীবন ব্যবস্থায় একদিকে থাকবে আত্মিক উন্নয়নের ব্যবস্থা, অন্যদিকে আইন-কানুন, রীতি-পদ্ধতি, দ-বিধি, অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজনীতি, শিল্পনীতি ইত্যাদি সর্বপ্রকার ও সর্ববিষয়ে বিধান থাকতে হবে। একটি জীবন ব্যবস্থা বা দ্বীন ছাড়া সমাজবদ্ধ জীবের বাস করা অসম্ভব। মানুষের কাছে কাম্য হচ্ছে এমন একটি জীবন ব্যবস্থা যেটি সঠিক ও নির্ভূল এবং প্রকৃতই সর্বজন কল্যাণকর। সেই জীবন ব্যবস্থা সমাজে চালু করার ফলে মানুষ এমন একটি সমাজে বাস করবে যেখানে কোনো অন্যায় থাকবে না। সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক কোনো প্রকার অন্যায় বা অত্যাচার বা প্রবঞ্চনা বা প্রতারণা থাকবে না, অবিচার থাকবে না। যেখানে জীবন এবং সম্পদের নিরাপত্তা হবে পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত। যেখানে চিন্তা, বাক স্বাধীনতা ও ব্যক্তি স্বাধীনতা হবে সংরক্ষিত এবং মানুষে মানুষে দ্বন্দ্ব, সংঘাত ও রক্তপাত থাকবে না।
অবশ্য মানবজাতির মধ্যে ভালো মন্দ সর্বরকমের লোকই থাকে সেহেতু এটি শতভাগ অর্জন করা সম্ভব নাও হতে পারে। তবে এটি যদি যুক্তিসংগত পর্যায়ে নামিয়ে আনা যায় তাই হবে মানবজাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন। এমন একটি জীবন-বিধান, দ্বীন বা ধর্মই নবীদের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা দান করেছেন। স্রষ্টার দেওয়া এই নিখুঁত ও ক্রুটিহীন জীবন ব্যবস্থা কায়েম বা মানব জীবনে কার্যকরী করলে অন্যায়, অবিচার, অশান্তি, নিরাপত্তাহীনতা, অপরাধ, সংঘর্ষ, রক্তপাত বিলুপ্ত হয়ে নিরাপদ ও শান্তিময় জীবন আমরা পেতে পারি। এটি বাস্তবায়ন করার পদ্ধতি হলো (১) আল্লাহর সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী জনগোষ্ঠী, (২) আল্লাহর মনোনীত বা নির্বাচিত ব্যক্তির শাসন অর্থাৎ নবী রাসূল, উলিল আমর, খলিফা, ওলিয়াম মুর্শিদের শাসন যা হবে আল্লাহর বিধি-বিধান অর্থাৎ ঐ শাসনতন্ত্র তথা কোরআন ভিত্তিক।
মুসলমান জাতির দূর্ভাগ্য যে রাসুল (সা.)-এর ওফাতের পর ইসলামী শাসনের এই তিনটি নিয়ামক পারস্পারিক সম্পর্ক নিয়ে ব্যাপক মতবিরোধ, বাক-বিতন্ড, যুদ্ধ-সংঘর্ষ হয়। কিন্তু এ সমস্যার সমাধান আজ পর্যন্ত করা সম্ভব হয়নি। মুসলমান জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় বিরোধের ভিত্তিমূল এর মধ্যেই নিহিত।
আল্লাহ তায়ালা মুসলমানদের সংশোধনের জন্য তাঁর বিধান অনুযায়ী অমুসলমানদের হাতে তাদের শাসন, কর্তৃত্ব দান করেছেন। ফলে অমুসলমানরা মুসলমানদের দ-মু-ের কর্তা হয়ে গেল। আল্লাহ কোরআনের বিভিন্ন স্থান সহ সূরা ২৪ নূরের ৫৫ নম্বর আয়াতে মোমেনদের এই পৃথিবীর আধিপত্য ও কর্তৃত্বেও প্রতিশ্রুতি দিয়াছেন-
وَعَدَ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ آمَنُواْ مِنْكُمْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِى ٱلأَرْضِ كَمَا ٱسْتَخْلَفَ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ ٱلَّذِى ٱرْتَضَىٰ لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُمْ مِّن بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْناً يَعْبُدُونَنِى لاَ يُشْرِكُونَ بِى شَيْئاً وَمَن كَفَرَ بَعْدَ ذٰلِكَ فَأُوْلَـٰئِكَ هُمُ ٱلْفَاسِقُونَ
“তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে আল্লাহ তাদেরকে এ মর্মে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তিনি নিশ্চিতভাবে তাদেরকে যমীনের প্রতিনিধিত্ব প্রদান করবেন, যেমন তিনি প্রতিনিধিত্ব প্রদান করেছিলেন তাদের পূর্ববর্তীদের এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্য শক্তিশালী ও সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন তাদের দীনকে, যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তিনি তাদের ভয়-ভীতি শান্তি-নিরাপত্তায় পরিবর্তিত করে দেবেন। তারা আমারই ইবাদাত করবে, আমার সাথে কোনো কিছুকে শরীক করবে না। আর এরপর যারা কুফরী করবে তারাই ফাসিক।”
ইতিহাস সাক্ষী দিচ্ছে যে, যতদিন তাদের ধর্মীয় কর্মকা-ে যথেষ্ট বিকৃতি থাকা সত্বেও আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অর্ধেক পৃথিবীতে তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু জাতি হিসাবে মুসলমানরা যখন রাসুল (সা.)-এর শিক্ষা থেকে বহুদূর চলে গেল তখন আল্লাহ তাআলা শাস্তিস্বরূপ মুসলমানদের অমুসলিমদের দাস বানিয়েছিলেন। যেমন নাকি ইহুদি জাতি ব্যাপক খোদাদ্রোহিতার কারণে তাদেরকে অইহুদিদের দাস বানিয়েছিলেন। এটাই আল্লাহর স্থায়ী বিধান। কোনো জাতি বা জনগোষ্ঠী যদি আল্লাহ প্রদত্ত ব্যক্তিগত, ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বিধি-বিধান পালন না করে তাহলে সামাজিক বিপর্যয় বিধির আওতায় সেই জনগোষ্ঠকে বিধর্মী আক্রমণকারীর দাস বানিয়ে দেন। প্রকৃতপক্ষে এই সামাজিক বা রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মূল কারণ আক্রমণকারীর অর্থনৈতিক বা সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বা শক্তি নয়; বরং পরাজিত জাতি সত্তার আল্লাহর বাণী সমাজে প্রতিষ্ঠা করার সদিচ্ছার অভাব ও তাদের আর্থ-সামাজিক উপায়-পন্থায় খোদার বিধানের ব্যাপক লংঘন, বিকৃতি ও অবৈধ প্রয়োগ। আল্লাহর প্রতিশ্রুতির মধ্য থেকে আরেকবার সত্য ফুটে উঠে সেটা হলো এই যে, আমরা নিজেদেরকে মুসলমান বলে বা মোমেন বলে আত্মতৃপ্তি লাভ করি না কেন। বাস্তবিক পক্ষে অর্থাৎ আল্লাহতায়ালার সুবিবেচনায় আমরা তা নই। অর্থাৎ আমাদের ইবাদতের পূর্ণাঙ্গতা নাই মর্মে আল্লাহর নিকট তা অগ্রহণযোগ্য। এ কারণেই আমাদের বর্তমান অবস্থা হচ্ছেÑ
(১) পৃথিবীতে যে কয়টি প্রধান জাতি রয়েছে তার মধ্যে আমরা নিকৃষ্টতম।
(২) আমাদের ছাড়া আর যে কয়টি জাতি রয়েছে তারা সকলেই পৃথিবীর সর্বত্রই মুসলমানদের অপমানিত, অপদস্থ করছে। মুসলমানদের আক্রমন করে হত্যা করছে, ধন-সম্পদ লুটে নিচ্ছে, তাদের উপর আক্রমণ করে হত্যা করছে। মুসলমানদের বাড়ি-ঘর আগুনে জ্বালিয়ে দিচ্ছে, মুসলিম মা, মেয়ে, বোনদের উপর পাশবিক নির্যাতন করে সতীত্ব নষ্ট করছে। অন্য দেশের অন্য ধর্মের লোকেরা তাদের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করছে অথচ মুসলিম শাসকরা তাদের প্রতি কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা তো দূরের কথা এমনকি মৌখিক সমবেদনা ও সহানুভূতিও প্রকাশ করছে না। এর কারণ কি? এর কারণ- (১) ধর্মের বিকৃত শিক্ষা ও (২) আধুনিক শিক্ষা।
মুসলিম জাতিকে দাসে পরিণত করার পরও খৃষ্টান জাতিগুলোর মনে ঐ দাস জাতির সম্পূর্ণ ভয় দূর হলো না। কারণ তখনও তাদের মন থেকে সেই ইতিহাস সম্পূর্ণ মুছে যায়নি যে, অতীতে ঐ জাতির হাতে কতবার তারা সামরিকভাবে পরাজিত হয়েছিল। তারা জানত, যে জাতিকে তারা পরাজিত ও পদানত করেছে সে জাতির প্রচ- শক্তির উৎস কোরআন ও হাদিস। এই কোরআন ও হাদিস এবং এর ভিত্তিতে তাদের নবীর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই তাদেরকে অপরিমেয় দূর্ধর্ষ যোদ্ধা জাতিতে রূপান্তরিত করেছিল যারা একদিন ইউরোপীয় খ্রিষ্টানদের মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিতাড়িত তো করেছিলই, শুধু তাই নয় তাদের ইউরোপের মধ্যে অর্ধেক ঢুকে পড়েছিল। তাই এই জাতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও নিশ্চিত হবার জন্য এই জাতিকে সম্পূর্ণরূপে পঙ্গু ও নিবীর্য করার জন্য এক শয়তানি ফন্দি আটল। সেই ফন্দি হলো এই যে, সমস্ত মুসলমান দুনিয়ায় খৃষ্টানরা যার যার অধিকৃত অংশে মুসলমানদের “ইসলাম শিক্ষা” দেওয়ার জন্য মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করল। ইংরেজরা এই উপমহাদেশে, মালয়েশিয়া, মিশরে, ইত্যাদিতে ফরাসীরা, আলজেরিয়া এবং অন্যান্য যে সব মুসলিম এলাকা দখল করেছিল সেখানে ডাচ অর্থাৎ ওলন্দাজরা, ইন্দোনেশিয়া ইত্যাদি বিভিন্ন স্থানে মাদ্রাসা স্থাপন করল। হেস্টিংস ১৭৮০ সালে কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করলেন। এই মাদ্রাসায় “ইসলাম শিক্ষা” দেওয়ার জন্য খ্রিষ্টান প-িতরা তাদের ইংরেজীতে Orientalists বলে। তারা আন্তর্জাতিকভাবে বহু গবেষণা করে একটি “নতুন ইসলাম” দাঁড় করালো, যে ইসলামের বাহ্যিক রূপ বা চেহারা ইসলামের মতই কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এই ধর্মেও বিশ্বাস, আকীদা বা আমল অর্থাৎ সার্বিক চিন্তাধারা ও কর্মকা- ‘সিরাতুল ইসলামের’ সম্পূর্ণ বিপরীত। এই বিপরীতমুখী “ইসলাম শিক্ষা” দিতে কিছু বিষয়বস্তু বাদ দিতে হবে। কেমন করে শিক্ষা দিতে হবে অর্থাৎ এক কথায় এই ইসলামের সিলেবাস এবং কারিকুলাম নির্ধারণ ও স্থির করলো খৃষ্টান প-িতরা। এই পাঠ্যক্রমে প্রথম ও প্রধান পরিবর্তন করা হলো কালেমার অর্থ ও তাৎপর্যকে অর্থাৎ লা-ইলাহা অর্থে। অর্থাৎ আল্লাহ সর্বব্যাপী ও সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক।
তাওহীদ ও সার্বভৌমত্বকে বাদ দিয়ে আল্লাহর উলিহিয়াতকে ব্যক্তি জীবনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হলো। কারণ সার্বভৌমত্ব ব্রিটিশের, আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ক্ষমতার কনসেপ্ট স্বীকার করা হলে ইংরেজদের রাজত্ব করাই বিপদজনক। তারপর আল্লাহর সার্বভৌমত্বের অর্থাৎ তাওহীদের পরেই স্থান হলো “ন্যায় কাজের আদেশ ও অন্যায় কাজে নিষেধের” এক্ষেত্রে ইংরেজদের রাজত্ব পরিচালনার জন্য যা প্রয়োজন তা হলো অসততা, তথা মিথ্যাচার, অন্যায় যুদ্ধ, ঘুষ আর সমস্ত ইসলামী শরীয়তের পরিপন্থি কার্যক্রম। এই সব আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী বিধি-বিধান বাদ দিয়ে সমষ্টিগত, জাতিগত বিষয়গুলোকে নিস্নস্তরে নামিয়ে অতি সাধারণ ব্যক্তিগত বিষয়গুলোকে অতি গুরুত্ব সহকারে প্রাধান্য দেওয়া হলো- শুধু নামাজ, রোজা, বিয়ে-শাদী, তালাক, দাঁড়ি-টুপি, পাজামা-পাঞ্জাবী, মেসওয়াক-কুলুপ, অযু-গোসল ইত্যাদি বিষয়গুলোকে ইসলামের অতি জরুরী এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসাবে উপরে স্থান দেওয়া হলো। ব্রিটিশ প্রণীত এই পাঠ্যক্রমে আরো প্রাধান্য দেওয়া হলো সে সব বিষয়গুলো সম্বন্ধে মুসলিম জাতির কলঙ্ক হিসাবে বিভিন্ন মতভেদ ও বিতর্ক আগে থেকেই মজুদ ছিল বা আছে। খ্রিষ্টান প-িতরা এটা করলেন এই জন্য যে, তাদের দেখানো ইসলামের আলেমরা যেন এগুলো নিজেদের মধ্যে তর্কাতর্কি, বাহাস ও প্রয়োজনে মারামারি করতে থাকে। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে না পারে এবং তাদের শাসন নিরাপদ হয়। আলিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে তাদের বানানো ইসলাম শিক্ষা দিতে কোথাও যেন বাঁধা না আসতে পারে সে জন্য মাদ্রাসা পরিচালনার জন্য পূর্ণ ক্ষমতা সহ অধ্যক্ষ পদটি তারা ইংরেজদের জন্যই সংরক্ষিত রাখলো। আর এই মাদ্রাসাটির প্রথম অধ্যক্ষ হলেন Dr. A. Springer, M.A। ১৭৮০ থেকে ১৯২৬ পর্যন্ত এই ১৪৬ বছরে একাধিকক্রমে ২৬ জন খ্রিস্টান প-িত মুসলমান ধর্মালম্বীদের ইসলাম ধর্ম শিক্ষা দিয়েছেন। অতঃপর ১৯২৭ সালে Mr. Alexander Hamilton Hantry অধ্যক্ষ পদ শামসুল উলেমা, কামাল উদ্দিন আহমদ, এম.এ, আই আই এস এর হাতে তা ছেড়ে দেয়।
ইংরেজরা চলে গেছে কিন্তু তাদের তৈরী করা ইসলাম আজও আমাদের মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। এই মাদ্রাসা থেকেই ঐ ইসলাম শিখে আলেমরা বের হচ্ছেন এবং আমাদের সেই তথাকথিত ইসলাম শিক্ষা দিচ্ছেন। আমরা আজ সেই ইসলামকে বুঝি যে ইসলাম এই খ্রিস্টান প-িতরা শিক্ষা দিয়েছেন। ফলে আজ আমাদের রাজনৈতিক, আর্থ সামাজিক জীবন পরিচালিত হচ্ছে খ্রিষ্টানদের তৈরী নানা রকম তন্ত্র/বাদ (Ism/Cracy) দিয়ে আর ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় জীবন পরিচালিত হচ্ছে, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর ইসলাম দিয়ে নয়। এরপরেও আমরা নিজেদেরকে মোমেন, মুসলিম, উম্মতে মোহাম্মদী বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এবং পরকালে আল্লাহর কাছে উচ্চ মর্যাদা ও পুরস্কার আশা করতে দ্বিধা করি না।
আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার স্বরূপ অনুধাবন করার জন্য আমাদের দেশে প্রচলিত আধুনিক শিক্ষা প্রবর্তনের জন্য লর্ড ম্যাকলে ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দের ২রা ফেব্রুয়ারী ব্রিটিশ পার্লামেন্টে যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন সেটা জানলে বিষয়টি স্পষ্টীকরণ করা যাবে। তিনি বলেনÑ “আমি সমস্ত ভারতবর্ষের এই প্রান্ত হইতে ঐ প্রান্ত ভ্রমন করিয়া একজন ভিক্ষুক বা তস্কর দেখিলাম না। এই দেশে সম্পদের এত প্রাচূর্য এবং ব্যক্তি মানুষের বিবেক, জ্ঞান, মনন ও যোগ্যতা এত উন্নত যে তাহাদের সাংস্কৃতিক ও আর্থিক ঐতিহ্যের মেরুদ- ভঙ্গ করতে না পারলে আমার ধারণা এই জাতিকে পদানত করা সম্ভব নয়। আমার প্রস্তাব এই দেশের প্রাচীন শিক্ষা ব্যবস্থা, ইহার সংস্কৃতিকে এমনভাবে পরিবর্তন করা হোক যাহাতে ভারতীয়রা বিশ্বাস করে যাহা কিছু বিদেশী এবং ইংরেজদের তৈয়ারী তাহাই উত্তম। ইহাতে তাহাদের জাতঅভিমান হারাইবে, তাহাদের স্বীয় সাংস্কৃতিক উৎকর্ষ হারাইবে এবং একটি প্রকৃত দাস জাতিতে (A truly dominated nation) এ পরিণত হইবে। ঠিক যেমন আমরা চাই।”
একটি জাতিকে নির্জীব, দাস, হতদরিদ্র বানিয়ে ফেলার কি নিষ্ঠুর ও অনৈতিক ষড়যন্ত্র। আজও সেই ষড়যন্ত্রেও ঘানি টেনে বেড়াচ্ছে হিন্দু-মুসলমান সহ সমগ্র বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের অধিবাসীবৃন্দ শিক্ষার গোলামী, রাজনৈতিক দাসত্ব, অর্থনৈতিক দাসত্ব, সাংস্কৃতিক গোলামী বর্তমানে ব্রিটিশ যুগের চেয়ে শত শত গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমাদের দেশের শিক্ষিত মানুষের কোনো স্বপ্নও নাই। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখেনা ম্যাকলে ভারতের মানুষদের যে চরিত্র ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কথা ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বলেছেন তার মূল কারণ ছিল পাঁচশত বছরে মুসলিম শাসন। যদিও এটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী শাসন ছিল না। আর ম্যাকলে যে শিক্ষিত ভারতীয় শ্রেণি তৈরী করতে চেয়েছেন তার রূপরেখা তিনি নিজেই বলেছেনÑ “এই মুহুর্তে অবশ্যই আমরা এমন একটা শ্রেণি গড়ে তুলতে যথাসাধ্য চেষ্টা করব যারা হবে যে, লক্ষ লক্ষ মানুষকে আমরা শাসন করি। তাদের আর আমাদের মধ্যে দোভাষী এমন এক শ্রেণীর মানুষ যারা হবে রক্তে গায়ের রঙ্গে ভারতীয়। কিন্তু মতামত, নৈতিকতা আর বিচার-বুদ্ধিতে ইংরেজ।” [Thomas Babington Maculay minitute on the Indian Education 2 February, 1835]
ম্যাকলের এই নীতি যে হুবহু বাস্তবায়িত হয়েছিল তার প্রমাণ হলো ইংরেজী শিক্ষায় শিক্ষিতরা নিজ দেশের স্বার্থ চিন্তা না করে ইংরেজ সরকারের স্বার্থ রক্ষা করে চলতো তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ তারা ইংরেজদের প্রতিটি শোষণমূলক পদক্ষেপ, দেশের শিল্প ধ্বংস, চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত, ধানের বদলে নীল চাষ, বিলেতী পণ্যের বাজার সৃষ্টি, দেশের অর্থ বিদেশে পাচার। সকল প্রকার অন্যায় কাজের নৈতিক সমর্থন দিয়ে এসেছে। এই শিক্ষিত শ্রেণি এমনকি ১৮৫৭ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামে যখন মুসলমানদের নেতৃত্বে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যে সর্বভারতীয় আন্দোলন গড়ে উঠেছিল এই শিক্ষিত শ্রেণিটি তখন স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ইংরেজদের দালাল হিসাবে কাজ করেছে। এই শিক্ষিত সম্প্রদায়ের দালালী কোন পর্যায়ে পৌঁছেছিল তা প্রসন্ন কুমার ঠাকুরের উক্তিতে জানা যায়। তিনি লিখেছেন- “আমাদের যদি জিজ্ঞাসা করা হয় যে, আমরা ইংরেজ অথবা অন্য সরকারের মধ্যে কাকে বেশি পছন্দ করি? তাহলে এক বাক্যে বলব যে, সর্বোতভাবে আমরা ইংরেজ সরকারকেই পছন্দ করি। এমনকি যদি হিন্দু সরকার হয় তার থেকেও।” [Daily Reformer, July, 1931]
আমরা আগেই বলেছি সব ধর্মের মূল শিক্ষা ‘তাওহীদ’, সেই তাওহীদ সর্বব্যাপী, মানুষের জীবনের সর্বস্তরের সমস্ত অঙ্গনের তাওহীদ। তার ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় আইন, দ-বিধি, শিক্ষা, অর্থনীতি ইত্যাদি সবকিছুর উপর তাওহীদ। এই তাওহীদের প্রধান অংশ হলো ‘রেসালাত’। কারণ মানব সৃষ্টির বিধান অনুযায়ী আল্লাহর খলিফা হিসাবে মানুষ অর্থাৎ নবী-রাসুল ও তারপরে তাঁর প্রকৃত ও বৈধ উত্তরাধিকারী ‘আহলে বাইত’। তথা আল্লাহ কর্তৃক নিয়োজিত মহান ব্যক্তিবর্গ। কোরআনের বৈধ ব্যাখ্যাকারী হিসাবে আল্লাহর এই দ্বীনে বা প্রাকৃতিক জীবন বিধান তথা ধর্ম পৃথিবীতে প্রচার ও প্রসারের দায়িত্বে নিয়োজিত আর মানুষ তাঁদের কথা সম্পূর্ণ রূপে বিশ্বাস করে এই মতাদর্শ অনুযায়ী জীবন-যাপন করবে ও তা সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সর্বাত্বক প্রচেষ্ট চালাবে। বর্তমান ইংরেজদের শিক্ষায় শিক্ষিত আলেম শ্রেণি ও আধুনিক শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গ বৃহত্তর ও সমষ্টিগত ভাবে আল্লাহর এই সর্বব্যাপী সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করে শুধুমাত্র ব্যক্তি জীবনে আল্লাহর সার্বভৌমত্বকে স্বীকার ও মান্য করছে। তাই এই ধারণা প্রকৃতপক্ষে কার্যত আল্লাহকে অস্বীকার করার সামিল যা কোরআনের ভাষায় ‘গায়রুল্লাহ’র ইবাদত বা তথা শিরক ও কুফর। কারণ পাশ্চাত্যের শিক্ষার মাধ্যমে আমাদেরকে বলা হয়েছে রাজতন্ত্রের সার্বভৌমত্ব হচ্ছে ‘রাজা-বাদশাহর’। ফ্যাসিবাদের সার্বভৌমত্ব হচ্ছে ‘ডিক্টেটরের’ অর্থাৎ ‘একনায়কের’। সমাজতন্ত্রের সার্র্বভৌমত্ব হচ্ছে এক শ্রেণির ‘ডিক্টেটরশীপ’। গণতন্ত্রের সার্বভৌমত্ব হচ্ছে ‘সংখ্যাগরিষ্ঠের’। সার্বভৌমত্ব আল্লাহর হাত থেকে মানুষের হাতে তুলে নেবার পর সংবিধান, আইন-কানুন, দ-বিধি, অর্থনীতি ইত্যাদি তৈরী করে মানব জীবন পরিচালনা আরম্ভ হলো। যার নাম হলো ‘ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্র’। এই গণতন্ত্রের সার্বভৌমত্ব রইল সংখ্যা গরিষ্ঠের হাতে। মানুষ তার সমষ্টিগত, জাতীয় জীবন পরিচালনার জন্য সংবিধান, আইন-কানুন, দ-বিধি, অর্থনীতি তৈরী করতে পারেনা। যা নিখুঁত, নির্ভূল ও ত্রুটিহীন অথচ যা মানুষের মধ্যকার সমস্ত অন্যায়-অবিচার দূর করে মানুষকে প্রকৃত শান্তি (ইসলাম) দিতে পারে। কাজেই ইউরোপের মানুষের তৈরী ত্রুটিপূর্ণ ও বিভ্রান্তকর আইন-কানুনের ফলে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অন্যায়-অবিচারের সীমা অতিক্রম করতে লাগল। বিশেষ করে অর্থনৈতিক জীবনে সুদ ভিত্তিক ধনতান্ত্রিক অর্থনীতি চালু করায় সেখানে চরম অন্যায় শুরু হয়ে গেল। মুষ্টিমেয় মানুষ ধণকুবের হয়ে সীমাহীন প্রাচুর্য ও ভোগ-বিলাসের মধ্যে ডুবে গেলে অধিকাংশ লোক শোষিত ও সুবিধাবঞ্চিত হয়ে দারিদ্রের চরম সীমায় নেমে গেল। স্বাভাবিক নিয়মে ঐ অর্থনৈতিক বৈষম্য অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে ইউরোপের মানুষের এক অংশ বিদ্রোহ করলো এবং গণতান্ত্রিক ধণতন্ত্রকে বাদ দিয়ে সমাজতন্ত্র, সাম্যবাদ ও এক শ্রেণির এক মালিকতন্ত্র কায়েম করলো।
অর্থাৎ গণতন্ত্র থেকে একনায়কতন্ত্র, ধণতন্ত্র থেকে সমাজতন্ত্র, সাম্যবাদ (Proletariat Dictatorship) এগুলো মানুষের এক ভুল থেকে অন্য ভুলে তথা অন্ধকারে হাতড়ানো। এক ব্যবস্থার ব্যর্থতায় অন্য নতুন আরেকটি ব্যবস্থা চালু বা প্রবর্তণ করা। কিন্তু স্মরণ রাখতে হবে যে, আল্লাহর সার্বভৌমত্বকে বাদ দিয়ে ধর্ম নিরপেক্ষতা প্রকৃতপক্ষে সমষ্টিগত জীবনের ধর্মহীনতা অবলম্বন করার পর গণতন্ত্র সহ যত তন্ত্র/বাদ (Ism/Cracy) চালু করার প্রচেষ্ট ইউরোপের মানুষেরা করেছে। সবগুলোর সার্বভৌমত্ব মানুষের হাতেই ছিল। অর্থাৎ রাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, সমাজবাদ, একনায়তন্ত্র সবগুলোর সমষ্টি হচ্ছে বর্তমান আধুনিক সভ্যতা।
আর এর ফলে বর্তমান বিশ্বে এক শতাংশ ধনীর হাতে বিশ্বের অর্ধেক সম্পদ। তাই আমরা দেখতে পাই যে, বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বে দ্রুত দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অর্থাৎ অধিকাংশ সাধারণ মানুষের রুজি রোজগার হ্রাস পাচ্ছে এবং এর সাদামাটা অর্থ হলো পৃথিবীতে বেকারের সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বেড়ে চলেছে। বিশ্ব মানব সমাজ এক ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি। বিশ্বের অর্থনীতিতে ভয়ংকর অর্থনৈতিক মন্দা ও সংঘর্ষের আশা করছে। সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক ক্রেডিট সুইস পেন্টাবাল ওয়েলথ রিপোর্ট ২০১৫ এ বলা হয় যে, বর্তমান মুহুর্তে সবচেয়ে ধনী একাংশের হাতে আছে বিশ্বের ৫০ শতাংশ সম্পদ। আর ৫০% দরিদ্র মানুষের হাতে আছে মাত্র ১% সম্পদ। বৈপরীত্যের মাত্রা ছিল পিলে চমকানোর চেয়ে বেশী। বিগত এক শতাব্দীর মধ্যে এমন বৈপরীত্য দেখা যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয় যে, বিশ্ব অর্থনীতিতে এখন মুদ্রামানের ব্যাপক তারতম্য ঘটায় অর্থাৎ ডলারের বিপরীতে অনেক দেশের মুদ্রার মান অবমূল্যায়িত হওয়ায় গত এক বছরের মুদ্রামান কমেছে ১২.৪ ট্রিলিয়ন ডলার। সম্পদ কমেছে, কিন্তু বৈষম্য কমেনি; বরং তা বেড়েছে। বরাবরের মত ধনীদের হাতে সম্পদের পরিমাণ বাড়ছে। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মানুষই বেশী ধনী। তাদের হাতেই বিশ্বের সবচেয়ে বেশী সম্পদ রয়েছে। তবে সমাজতান্ত্রিক চীনের নাগরিকদের হাতেও সম্পদের পরিমাণ বেড়ে চলেছে।
অঞ্চল ওয়ারী হিসাবে দেখা যায় যে, বিশ্বের মোট প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ ১৮% বাস করেন উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে। অথচ তাদের হাতে রয়েছে বিশ্ব সম্পদের ৬৭%। এই দুই অঞ্চলে মানুষের তুলনায় সম্পদের পরিমাণ অনেক বেশী। বিশ্বের অন্যত্র পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। চীন ও ভারত ব্যতীত এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ২৬% প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের বসবাস থাকলেও তাদের হাতে সম্পদের পরিমাণ ১৮%। চীনে বিশ্বের মোট মানুষের ২১% এর বসবাস। আর তাদের সম্পদ ৯%। আবার দক্ষিণ আমেরিকায় বিশ্বের ৮% লোকের বসবাস হলেও তাদের রয়েছে মাত্র ৩% সম্পদ। এদিকে ভারতেও ধনী-দরিদ্রের ফারাক অনেক বেড়ে চলেছে। এক দেশে শীর্ষ ধনী ১% লোকের হাতে রয়েছে দেশটির ৫৩% সম্পদ। প্রায় এর চেয়ে কম ধনী ১০% এর হাতে রয়েছে ৭৬% সম্পদ। এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের নাম আছে কম সম্পদ ওয়ালা দেশের তালিকায়। তবে এক শ্রেণির মানুষের হাতে বিপুল সম্পদ রয়েছে। ২০১০ সালের খানা আয় ও ব্যয় জপির অনুযায়ী বাংলাদেশের শীর্ষ মাত্র ৫% লোকের হাতে রয়েছে মোট আয়ের ৪ ভাগের এক অংশ। আর সবচেয়ে গরীবদের আয়ের পরিমাণ মোট আয়ের মাত্র .৭৮%। অর্থাৎ শতকরা একভাগেরও কম।
তাই আমরা প্রাপ্ত তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ভূল ভাবে বলতে পারি যে, বর্তমান বিশ্বে সমাজের যে ব্যাপক বিপর্যয় সাধিত হয়েছে তার দায়-দায়িত্ব বিভ্রান্ত খোদাদ্রোহী একশ্রেণির মানুষের। আর খোদাদ্রোহী মানুষেরা অবশ্যই প্রাকৃতিক দূর্যোগের শিকার হবে। এটাই আল্লাহর স্থায়ী বিধান।
এই প্রেক্ষাপটে আমরা ভবিষ্যতে এই ব্যাপারে ব্যাপক গবেষণার “পবিত্র কোরআনের আলোকে সামাজিক বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক দূর্যোগ” পুস্তকটি বিশ্বের বিবেকবান জনগোষ্ঠীর সুবিচারের জন্য উপহার দিলাম। যা মানুষের মুক্তির উপায় ও আমার নাজাতের ওসিলা হয় এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
এই পুস্তকটি মুদ্রণের ব্যাপারে আমার শ্রদ্ধেয় ভগ্নি বেগম ফরিদা মাসুদ ও রওশন আরা আমজাদ ও আমার কনিষ্ঠভ্রাতা ফরহাদ চৌধুরী যে বিশেষ সাহায্য ও সহযোগিতা প্রদান করেছেন তার জন্য তাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও মোবারকবাদ জানাই। এই বইটি লেখার সময় সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছেন আমার ধর্মপতœী নাদিরা মোমিন ও আমার দুই কন্যা রাইসা আফরিন চৌধুরী ও ছাবেরা তাহসীন চৌধুরী। আরো কৃতজ্ঞতা জানাই খোন্দকার আলী কামরান আল জাহিদ, যুগ্ম পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক; আল্লামা শায়েস্তা খান আল আযহারী ও আমার সহপাঠি ও বন্ধুবর মেজর আবুল হোসেন (অবঃ)।
জনাব শাহজাহান আলী ও জনাব শাহবাজ আহম্মেদ পুস্তক প্রকাশের ক্ষেত্রে যে অশেষ সাহায্য সহযোগীতা করেছেন সেজন্য তাঁদেরকে জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন। আল্লাহতায়ালা এজন্য তাঁদের ইহলোক পরলোকের কল্যাণ দান করুন। আমিন। সুম্মা আমিন।
নভেম্বর ৩০, ২০১৫ ঈসায়ি।

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “সামাজিক বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ”

Your email address will not be published.

Quality
Price
Service